রাত তখন ১০টা বেজে ১৫ মিনিট। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের মুজিবর রহমান রোডে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। জনশূন্য সেই রাস্তায় হঠাৎই থমকে গেল একটি স্করপিও গাড়ি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ যখন তাঁর ভাড়ার ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই ঘনিয়ে এল মৃত্যু। উল্টো দিক থেকে আসা একটি সাদা গাড়ি এবং একটি বাইক পথ আটকালো তাঁর। নিমেষের মধ্যে চলল একের পর এক গুলি। যেন পর্দার কোনও ক্রাইম থ্রিলার বাস্তব হয়ে ধরা দিল মধ্যমগ্রামের রাস্তায়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন এই নির্জন এলাকাকেই বেছে নিল আততায়ীরা? তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর মোড় পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দাদের মতে, চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি আগে থেকেই রেইকি করা হয়েছিল। যে প্যাকেজিং সংস্থার গেটের সামনে গাড়িটি আটকানো হয়, সেই জায়গাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ওই রাস্তায় সরু গলি বেশি এবং জনবসতি কম থাকার সুযোগ নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পরিকল্পিতভাবেই সরু রাস্তায় গাড়িটি আটকানো হয় যাতে চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে পালানোর সুযোগ না পান।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল সিসিটিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতি। যে কারখানার সামনে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেখানে কোনও সিসিটিভি নেই। ঝমঝমে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় তখন কোনও পথচারীও ছিলেন না। ফলে আততায়ীদের সংখ্যা কত ছিল বা তারা দেখতে কেমন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। প্রকৃতির দুর্যোগকে ঢাল করেই খুনিরা তাদের অপারেশন সাকসেসফুল করেছে বলে মনে করছে লালবাজার ও জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের পর দুষ্কৃতীরা বাদু রোড ধরে চম্পট দিয়েছে। এই রাস্তা ধরে খড়িবাড়ি ও শাসন হয়ে সহজেই বসিরহাট পৌঁছানো সম্ভব। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গা ঢাকা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা উসকে দিচ্ছে পুলিশ। ফলে এই খুনের নেপথ্যে কোনও আন্তর্জাতিক চক্র বা সুপারি কিলারের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডে অত্যন্ত উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া খোল দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ৭.৬৫ বোরের সেমি-অটোমেটিক পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। একাধিক দিক থেকে গুলি চলায় পুলিশের ধারণা, আততায়ীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে তিন থেকে চার জন এবং প্রত্যেকের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। রাজনৈতিক কোনও রেষারেষি নাকি পুরনো শত্রুতা, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।





