ভোটগণনার উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদে বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আবহেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন নওদার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শফিউজ্জামান। এলাকায় ‘হাবিব মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত এই নেতার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা রাজনীতিতে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ এপ্রিল, বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ওই দিন নওদা এলাকায় ভোট চলাকালীন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এক নেতার সঙ্গে প্রকাশ্যেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন হাবিব মাস্টার। মুহূর্তের মধ্যে সেই বচসা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বচসা থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা ক্রমে এলাকায় অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হলেও, নওদার এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশকে।
কমিশনের কড়া বার্তার পর আর সময় নষ্ট করেনি প্রশাসন। নওদা থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। নির্বাচনের দিন থেকেই পুলিশের নজরে ছিলেন এই তৃণমূল নেতা। অবশেষে ভোটগণনা চলাকালীন সোমবার গভীর রাতে পুলিশি অভিযানে শফিউজ্জামান ওরফে হাবিব মাস্টারকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোট পরবর্তী হিংসা বা অশান্তি রুখতে পুলিশ যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, এই গ্রেফতারি তারই প্রমাণ। তৃণমূলের ব্লক সভাপতির এই পরিণতিতে যেমন দলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে, তেমনই বিরোধীরা একে ‘আইনের জয়’ বলে দাবি করছে। বর্তমানে ধৃত নেতাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।





