মহারাষ্ট্রে নতুন ফরমান! শুধু কথা বলা নয়, মারাঠি লিখতেও হবে ট্যাক্সিচালকদের, রুজি-রুটির টানে উদ্বেগে হাজার হাজার পরিবার

মহারাষ্ট্রে এবার অটো-ট্যাক্সি চালাতে হলে কেবল হাতল ঘোরালেই চলবে না, জানতে হবে মারাঠি ভাষাও! ১ মে থেকে রাজ্যজুড়ে এক নজিরবিহীন ‘যাচাই অভিযান’ শুরু করতে চলেছে মহারাষ্ট্র পরিবহন দপ্তর। এই অভিযানে অটো এবং ট্যাক্সি চালকদের মারাঠি ভাষায় দক্ষতা পরীক্ষা করা হবে। যদি কোনো চালক মারাঠি পড়তে বা লিখতে না পারেন, তবে তাঁর লাইসেন্স বাতিল করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে প্রশাসন।

কেন এই কড়াকড়ি? পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চল, নাগপুর এবং ছত্রপতি সম্ভাজীনগর থেকে যাত্রীদের ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে। অনেক চালক মারাঠিতে কথা বলতে পারেন না বা ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করেন না। কর্তৃপক্ষের মতে, স্থানীয় ভাষা জানা লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ারই একটি অংশ, যা এখন কড়াকড়িভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।

চালক ইউনিয়নগুলির ক্ষোভ ও আইনি হুঁশিয়ারি: প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই চালক মহলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইউনিয়নগুলির দাবি:

  • জীবিকা বিপন্ন: বহু বছর ধরে যারা এই পেশায় আছেন, হঠাৎ করে ‘পড়া ও লেখা’ বাধ্যতামূলক করায় তাঁদের রুজি-রুটি টান পড়বে।

  • দুর্নীতির ভয়: চালকদের আশঙ্কা, এই ‘ভাষা পরীক্ষার’ নামে আরটিও (RTO) অফিসগুলিতে ঘুষের লেনদেন বেড়ে যাবে।

  • আইনি লড়াই: ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, মোটর ভেহিকলস রুলস অনুযায়ী ‘কাজ চালানোর মতো ভাষাজ্ঞান’ থাকলেই চলে, সাবলীল দক্ষতা জরুরি নয়। নিয়ম অমান্য করে লাইসেন্স বাতিল করা হলে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

১ মে থেকে নজরদারি: রাজ্যের ৫৯টি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরে ১ মে থেকে এই অভিযান শুরু হবে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, মহারাষ্ট্রে পরিষেবা দিতে হলে স্থানীয় ভাষার ন্যূনতম জ্ঞান থাকতেই হবে।

এই নতুন নিয়ম মহারাষ্ট্রের কয়েক লক্ষ চালকের ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy