পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এখন সরাসরি ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী, যার ফলস্বরূপ গত ১৫ই মে থেকে ভারতে পেট্রলের দাম প্রায় ৭.৮ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে পেট্রল ১০২ টাকা এবং ডিজেল ৯৫ টাকার গণ্ডি পার করেছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল গাড়িচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দিল্লি-এনসিআর-এ সিএনজির দাম প্রতি কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে পাইপড গ্যাসের (PNG) দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটও ওলটপালট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে, যা প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়ে ৩,০৭১ টাকায় পৌঁছেছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
পরিবহন খরচ বাড়ায় দুধ, রুটিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ইতিমধ্যে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচামালের খরচ ও প্যাকেজিংয়ের চাপে খাদ্যদ্রব্য থেকে প্রসাধন সামগ্রীর দাম ৩ থেকে ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মারুতি ও হুন্ডাইয়ের মতো কোম্পানিগুলোও বর্ধিত খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে গাড়ি ও খুচরা যন্ত্রাংশের দাম বাড়িয়েছে। এছাড়া, ১ জুন থেকে উত্তর প্রদেশে বিদ্যুৎ বিলে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত সারচার্জ এবং বিমান পরিষেবা সংকুচিত হওয়ায় যাতায়াত খরচও মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





