উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। মদের নেশায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নিজের তিন বছরের পুত্রসন্তানকে নৃসংশভাবে খুন করার পর আত্মঘাতী হলেন এক ব্যক্তি। জেলার রাক্সা থানা এলাকার ধিমারপুরা গ্রামের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সী প্রেম সিং রাইকওয়ার পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। দীর্ঘদিনের মদ্যপানের অভ্যাসের কারণে তাঁর সংসারে নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। ঘটনার রাতে গ্রামের একটি বিয়ে বাড়ি থেকে অতিরিক্ত মদ্যপান করে বাড়ি ফেরেন প্রেম সিং। গভীর রাতে বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। এরপর পরিবারের চাপে তিনি নিজের ঘরে চলে যান এবং ছোট ছেলে ভরতকে নিজের সাথে নিয়ে শুতে যান।
ভোররাতে স্ত্রী আশা দেবী যখন ছেলেকে খাওয়াতে যান, দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিতেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তিনি দেখেন স্বামী সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছেন এবং মেঝেতে রক্তাপ্লুত অবস্থায় পড়ে রয়েছে তাঁর তিন বছরের কলিজার টুকরো ভরত।
তদন্তে জানা গেছে, প্রেম সিং প্রথমে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের ছেলের গলা কেটে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটায় এবং পরে সেই ঘরেই নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। প্রেম ও আশার ছয় বছরের সংসারে এটিই ছিল তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান। তাঁদের আরও দুটি ছোট মেয়ে রয়েছে। শোকে পাথর হয়ে মা আশা বিলাপ করছেন, “তুমি তো আমাকেও মেরে ফেলতে পারতে, কেন আমার কোলের শিশুটাকে কেড়ে নিলে?” এই নারকীয় ঘটনার নেপথ্যে কেবলমাত্র পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কোনো মানসিক অবসাদ কাজ করছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





