২০২১ সালের নন্দীগ্রামের সেই স্মৃতি আবারও ফিরে এল ২০২৬-এর মে মাসে। তবে এবার লড়াইয়ের ময়দান ছিল খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর। নিজের চেনা পিচেও শেষরক্ষা করতে পারলেন না তৃণমূল নেত্রী। দীর্ঘ লড়াই শেষে ফের একবার শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই পরাস্ত হলেন তিনি। তবে এই পরাজয় ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ। হারের পরও ইস্তফা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন জট তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রায় ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এই ব্যবধান ছিল মাত্র ১,৯৫৬ ভোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের গড়ে এই হার ঘাসফুল শিবিরের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।
পরাজয়ের পর এক উত্তপ্ত সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি জয়ী হয়নি বরং কমিশনকে ব্যবহার করে ১০০-র বেশি আসনে ভোট লুট করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। আমরা হারিনি, তাই আমি ইস্তফা দেব না।”
অন্যদিকে, জয়ের পর অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মমতার পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাননি তিনি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু বলেন, “এ বিষয়ে যা বলার দলের প্রবক্তারা বলবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, সংবিধানে যা আছে সেই অনুসারেই কাজ হবে।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জয়ের পর অহেতুক বিতর্কে না জড়িয়ে শুভেন্দু এখন পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া এবং রাজভবনের কোর্টে ঠেলে দিতে চাইছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পরাজয়ের পেছনে ‘ষড়যন্ত্ৰ’ এবং ‘ভোট লুটের’ তত্ত্ব খাড়া করছেন, তখন শুভেন্দু অধিকারী সাংবিধানিক রীতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে নিজের জয়কে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। জনগণের রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে রাজ্য কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে এখন আইনি লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার।





