“ভোট দিতে এল হাতি!”-কড়া নিরাপত্তা’এড়িয়ে বুথে হাজির স্বয়ং ‘রামলাল’, হুলস্থুল ঝাড়গ্রামে!

ভোটের দিনে অশান্তি রুখতে পুলিশ মোতায়েন ছিলই, এমনকি জারি করা হয়েছিল ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা)। কিন্তু সমস্ত নিয়ম-কানুন আর প্রশাসনিক বেড়াজাল তুচ্ছ করে ভোটকেন্দ্রের সামনে সশরীরে হাজির এক ‘ভিআইপি’ ভোটার! তিনি আর কেউ নন, ঝাড়গ্রামের অতি পরিচিত দাঁতাল ‘রামলাল’

বন্দিদশা থেকে পলায়ন!

ভোটের দিন অযাচিত বিপত্তি এড়াতে বনবিভাগ আগেভাগেই রামলালকে কড়া নজরবন্দি করে রেখেছিল। মোতায়েন ছিল ৩০০ জন বনকর্মী, ২৫টি গাড়ি এবং বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে সবাইকে কার্যত ঘোল খাইয়ে বন্দিদশা থেকে চম্পট দেয় সে। সোজা গিয়ে হাজির হয় জিতুশোল আংশিক বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সামনে!

ভক্তদের ভিড়, ভ্রূক্ষেপহীন রামলাল

হেলেদুলে রামলালকে বুথের সামনে আসতে দেখে ভোটারদের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে যায়। ভোট দেওয়া ফেলে সাধারণ মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েন রামলালের ছবি ও ভিডিও তুলতে। বনকর্মীরা হোস পাইপ দিয়ে জল ছিটিয়ে তাকে সরানোর চেষ্টা করলেও নিজের মেজাজেই খোশগল্পে মত্ত ছিল গজরাজ। কখনও রাস্তা থেকে খাবার খুঁটে খাওয়া, তো কখনও আপন মনে ঘোরাফেরা—রামলালের এই ‘ভোট সফর’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন সুপার ভাইরাল।

লড়াইয়ের ক্ষত ভুলে ফের ময়দানে

উল্লেখ্য, মাত্র দু’সপ্তাহ আগে অন্য এক দাঁতাল ‘শ্যামলাল’-এর সঙ্গে লড়াইয়ে গুরুতর জখম হয়েছিল রামলাল। ডান পায়ে চোট নিয়ে দিনকয়েক কাদার মধ্যে বসে কাটাতে হয়েছিল তাকে। গ্রামবাসীদের ভালোবাসা আর বনদপ্তরের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে জঙ্গলে ফিরলেও, ভোটের টান বোধহয় উপেক্ষা করতে পারল না সে।

অবশেষে বনদপ্তরের কর্মীরা এসে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় রামলালকে লোকালয় থেকে সরিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান। তবে ৩০০ বনকর্মী আর এতগুলো গাড়ির নিরাপত্তা বেষ্টনী গলিয়ে রামলাল কীভাবে বুথের সামনে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy