নির্বাচন মানেই কি বাইক বাহিনীর হুঙ্কার? এই চিরাচরিত দৃশ্য বদলাতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল নির্বাচন কমিশন। ভোটের মরসুমে বাইক চলাচলের ওপর কড়া বিধিনিষেধ জারি করার বিষয়ে শুরু থেকেই অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে কমিশন। তবে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সেই কড়াকড়িতে কিছুটা ছাড় দেওয়ায়, এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল নির্বাচন কমিশন। আজ দুপুর ১২টায় এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময় থেকেই কমিশন জানিয়েছিল, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাইক বাহিনীর প্রভাব রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। কমিশনের প্রাথমিক নির্দেশ ছিল, কেবলমাত্র নির্বাচনী কাজ ছাড়া অন্য কোনো কারণে বাইক ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এক বাইকে দু’জন সওয়ার হওয়াও ছিল নিষিদ্ধ। কমিশনের যুক্তি ছিল, বাইক নিয়ে দুষ্কৃতীরা খুব সহজেই ‘নাকা চেকিং’ এড়িয়ে পালিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, বাইকে করে এলাকায় দাপিয়ে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগও জমা পড়েছিল কমিশনের দপ্তরে।
হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে বিধিনিষেধ শিথিল:
কমিশনের এই কড়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা হলে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, কোন নিয়মে সাধারণ মানুষের গতিবিধিতে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে? এরপরই আদালত কমিশনের নির্দেশে বদল এনে জানায়, ভোটের দুই দিন আগে নয়, বরং ভোট শুরু হওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে থেকে কড়াকড়ি শুরু হবে। এমনকি বাইকে সওয়ার হওয়ার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, ২৯ তারিখ নির্বাচন হলে তার ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে থেকে ‘ডাবল রাইডিং’ নিষিদ্ধ হবে, তবে স্কুল পড়ুয়া বা মেডিকেল এমার্জেন্সির ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ দেখালে ছাড় মিলবে।
কমিশনের নতুন পদক্ষেপ:
হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি কমিশন। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবার-সহ একাধিক জায়গা থেকে বাইক বাহিনীর দাপাদাপির ভিডিও সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে তারা। কমিশনের দাবি, বাইক বাহিনীর ভয়মুক্ত নির্বাচন সম্ভব নয়। এই যুক্তিকে হাতিয়ার করেই আজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করল নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, আজ দুপুর ১২টার শুনানিতে আদালত বাইক নিয়ে নতুন কী নির্দেশ দেয়। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আদালতের দিকে।





