নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে উত্তেজনার পারদ চড়ল তুঙ্গে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাসন্তী ব্লকের ভরতগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের কেষ্টবাবুর চক বটতলা এলাকায় দলীয় পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উপক্রম তৈরি হয়। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে এই বিবাদকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় আইএসএফ কর্মীরা এলাকায় দলীয় পতাকা লাগাতে গেলে তৃণমূল কর্মীরা তাতে বাধা দেন বলে অভিযোগ। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ, যা দ্রুত হাতাহাতির রূপ নেয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাসন্তী বিধানসভার আইএসএফ প্রার্থী অসিত রায়। তিনি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং দুই পক্ষ একে অপরের দিকে তেড়ে যায়।
পাল্টাপাল্টি তোপ: আইএসএফ প্রার্থী অসিত রায় সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে, তাই তারা এখন ভয় পেয়ে অশান্তি করে আমাদের আটকানোর চেষ্টা করছে।” অন্যদিকে, বাসন্তী ব্লক তৃণমূল নেতা শ্রীদাম মণ্ডল যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আইএসএফ কর্মীরা সরকারি জায়গায় নিয়ম ভেঙে পতাকা লাগাচ্ছিলেন এবং বহিরাগতদের নিয়ে এসে গ্রামবাসীদের ভয় দেখাচ্ছিলেন।
হাড়োয়ায় ছড়াল আঁচ: বাসন্তীর রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া বিধানসভার শাসন থানার ডেউপুকুর এলাকাতেও একই ইস্যুতে সংঘর্ষ বাঁধে। সেখানে আইএসএফ কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, পুরনো বিবাদের জেরে আইএসএফ-ই প্রথম আক্রমণ করেছে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। শাসন থানার পুলিশ দুইজনকে আটক করে পরিস্থিতি সামাল দিলেও এলাকা এখনও থমথমে।





