উচ্চশিক্ষার জন্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়াকে বেছে নিচ্ছেন বহু ভারতীয় পড়ুয়া। এবার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ নিয়ে এল পুতিনের দেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করল মস্কো। বৃহস্পতিবার ‘ইন্দো-রাশিয়ান এডুকেশন সামিট ২০২৬’-এ যোগ দিয়ে এ কথা জানালেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ।
রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার বিশেষত্ব
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে সেদেশে প্রায় ৩ লক্ষ বিদেশি পড়ুয়া রয়েছেন, যার মধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা কেন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আলিপভ বলেন, “আমাদের সায়েন্টিফিক স্কুল, কঠোর অ্যাকাডেমিক মান এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডিজিটাল টেকনোলজি এবং নিউক্লিয়ার সায়েন্সের মতো ক্ষেত্রগুলিতে রাশিয়ার সমকক্ষ খুব কম দেশই আছে।”
গবেষণা ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত ও রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখন যৌথ গবেষণায় অনেক বেশি সক্রিয়। সেচেনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যেই আইআইটি বম্বে, দিল্লি ইউনিভার্সিটি এবং জেআইএস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে হাত মিলিয়েছে। এছাড়া কাজান ফেডারেল ইউনিভার্সিটি ভারতের বিভিন্ন প্রোগ্রামের আওতায় ইংরেজি ভাষায় মেডিক্যাল কোর্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি হরিয়ানা ও রাজস্থান সরকারের রাশিয়া-কেন্দ্রিক শিক্ষাগত সহযোগিতার প্রশংসাও করেন।
রুশ ভাষার প্রসার
কেবল উচ্চশিক্ষা নয়, রুশ ভাষার প্রচার ও প্রসারেও জোর দিচ্ছে মস্কো। আলিপভ জানান, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেই তিরুবনন্তপুরম, বেঙ্গালুরু এবং আহমেদাবাদে নতুন রুশ ভাষা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও রুশ ভাষা শেখার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে।
কেন এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ?
দিল্লির লে মেরিডিয়ান হোটেলে ২৮-২৯ মে আয়োজিত এই ইন্দো-রাশিয়ান এডুকেশন সামিট ২০২৬, দুই দেশের শিক্ষাবিদ ও নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। গত দু’বছরে এই সম্মেলন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে অ্যাকাডেমিক সম্পর্কের সেতু হয়ে উঠেছে। শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সমন্বয়, উদ্ভাবন এবং যৌথ ডিগ্রির সুযোগ তৈরি করাই এই সামিটের প্রধান উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রদূত আলিপভ স্পষ্টভাবে জানান, রাশিয়ার এই শিক্ষাগত উদ্যোগ কেবল জ্ঞান আদান-প্রদান নয়, বরং আধুনিক বিশ্বের জটিল সমস্যাগুলি সমাধানে মেধাবীদের প্রস্তুত করার একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। এই নতুন সহযোগিতার ফলে ভারতীয় পড়ুয়া ও গবেষকরা বিশ্বমানের গবেষণাগার ও প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসার অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন, যা আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।





