বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ কোনটি? গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬-এ চমকপ্রদ তথ্য

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতের খবর যখন শিরোনামে, ঠিক তখনই ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল পিস ইনডেক্স’ (GPI) প্রকাশ করল ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস। ১৬৩টি স্বাধীন দেশ ও অঞ্চলকে নিয়ে তৈরি এই রিপোর্টে শান্তির সামগ্রিক সূচকে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। টানা ১২তম বছরের মতো বিশ্বজুড়ে শান্তির মাত্রা হ্রাস পেয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে শান্তির চরম অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, আইসল্যান্ড টানা ১৯তম বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ বা নিরাপদ দেশ হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দেশটিতে স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই, অপরাধের হার অত্যন্ত নগণ্য এবং সামাজিক আস্থার জায়গাটি অত্যন্ত সুদৃঢ়। তালিকার প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে আইসল্যান্ডের পরেই রয়েছে নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া এবং আয়ারল্যান্ড। ইউরোপীয় দেশগুলো এই তালিকার সিংহভাগ জায়গা দখল করে রেখেছে, যা অঞ্চলটিকে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অন্যদিকে, তালিকার নিচের দিকে থাকা দেশগুলোর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রাশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে সুদান, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইউক্রেন ও ইসরায়েলের মতো দেশ। বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং এআই-চালিত ড্রোন প্রযুক্তির আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার বিশ্বব্যাপী শান্তির সূচককে আরও নিচে নামিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি আমেরিকা ১৩৪তম স্থানে নেমে এসেছে, যার মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংস বিক্ষোভকে দায়ী করা হয়েছে।

ভারতের অবস্থান এই সূচকে ১২৭তম। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তবে ভারতের প্রতিবেশী ভুটান ১৬তম স্থানে থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের ভালো অবস্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ১৫২তম স্থানে থেকে তালিকার নিচের দিকেই রয়ে গেছে।

ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস তাদের ২০তম এই সংস্করণে উল্লেখ করেছে যে, গত এক বছরে ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৯টির পরিস্থিতিই খারাপ হয়েছে। মাত্র ৬২টি দেশ আগের তুলনায় উন্নতির মুখ দেখেছে। বর্তমানে বিশ্বে ৬১টি সক্রিয় রাষ্ট্র-ভিত্তিক সংঘাত চলছে, যা গত ১৫ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। এই সংঘাত শুধু স্থানীয় পর্যায়ে আটকে নেই, বরং আন্তর্জাতিকীকরণের ফলে তা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব এখন ‘গ্রেট ফ্র্যাগমেন্টেশন’ বা এক গভীর বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যখন সামরিক ব্যয় বাড়ছে—যা গত বছর রেকর্ড ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—অন্যদিকে শান্তিরক্ষার জন্য বিনিয়োগ থাকছে নামমাত্র। যুদ্ধের এই আধুনিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মাঝে দাঁড়িয়ে বিশ্বশান্তি আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলো শান্তির আলোকবর্তিকা হয়ে থাকলেও, বড় দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সংঘাত আর রাজনৈতিক অস্থিরতা সামগ্রিকভাবে পুরো পৃথিবীকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy