বারুইপুর কাণ্ডে নয়া মোড়, সুজন চক্রবর্তী-সহ চার সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের!

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতিতে এবার আইনি জটিলতা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরবর্তী ঘটনাক্রম, সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং জনসমক্ষে প্ররোচনা ছড়ানোর অভিযোগে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, লাহেক আলি, মোনালিসা সিনহা এবং সফিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী সৈকত সরকার এই মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলা দায়ের হতেই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। বিজেপির এই পদক্ষেপকে তিনি ‘হতাশার প্রতিফলন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, “ওরা ভয় পাচ্ছে, তাই আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির এই প্রচেষ্টা হাস্যকর।” শুধু তাই নয়, তৃণমূল জমানার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূল আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বহুবার আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে চেয়েছিল। বিজেপি কি এখন সেই তৃণমূলের জুতোতে পা গলিয়ে রাজনীতি করবে?”
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন সুজন বাবু। তাঁর মতে, বারুইপুরের ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস। পুলিশের ব্যর্থতায় জনরোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বাস্তবকে অস্বীকার করে অপরাধে সাম্প্রদায়িক বা জেহাদি রং লাগালে ন্যায়বিচার অসম্ভব। সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, সব কিছু কি মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করে দেবেন? এটা স্বৈরশাসনের পদধ্বনি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এদিকে, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, বারুইপুরে শিশু অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ করার পরেও পুলিশ মিসিং ডায়েরি নিয়ে গুরুত্ব দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর এসপি অফিসে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সেলিম। তাঁর দাবি, “আইন নয়, বরং আইনের প্রয়োগে ত্রুটি রয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের ধরছে না, উল্টো স্থানীয় নেতাদের প্রভাবে অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।” সেলিমের মতে, গ্রামবাসীরাই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বাধ্য হয়েছিল, পুলিশ তখন নিষ্ক্রিয় ছিল।
অন্য দিকে, বুধবার মধ্যরাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এনকাউন্টার নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ালেও, পুলিশের দাবি, পালানোর সময় সে হামলা করলে বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয়। একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারির পর তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। বারুইপুরের ঘটনায় একদিকে যখন খুনের তদন্ত চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দোষারোপের পালা তুঙ্গে। আইনের শাসন বনাম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এই লড়াইতে শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।