হাওড়া পুরসভায় এবার ৬০টি ওয়ার্ড, নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বড় ইঙ্গিত উমেশ রাইয়ের

হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—চলতি বছরের নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্বিন্যাসের পর হাওড়া পুরসভায় মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা হবে ৬০টি।
মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই। তিনি বলেন, “অতীতে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে হাওড়া পুরসভাকে ৬৬টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছিল, যা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে কোনোদিন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এর ফলে পুর পরিষেবা প্রদানে নানাবিধ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এখন জনস্বার্থ এবং উন্নত পুর পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমীক্ষা চালিয়ে ওয়ার্ড সংখ্যা ৬০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নভেম্বরে নির্বাচন হবে, এটি এখন নিশ্চিত।”
শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু কলকাতা পুরনিগম নিয়েও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাওড়া পুরভোটের সঙ্গেই বা তার ঠিক পরেই কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন ২০০৫ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার স্মিতা পান্ডে। তিনি কেএমসির প্রথম মহিলা কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর বর্তমানে প্রশাসকের ভূমিকা পালন করছেন।
হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাসের ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডকে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে মিশিয়ে দেয়, ফলে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে ৬৬ হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে রাজ্য সরকার বালিকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিলে ওয়ার্ড সংখ্যা ফের ৫০-এ নেমে আসে। এই সংক্রান্ত সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হলেও দীর্ঘ চার বছর তা রাজভবনে আটকে ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে সরকার ৬৬টি ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করার পথে হেঁটেছিল।
অবশেষে চলতি বছরের মে মাসে তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস পুরনো বিলে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ হওয়ার কথা ছিল। এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় নতুন করে ‘হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পাশ করানো হয়। প্রশাসনিক স্তরে এখন প্রস্তুতি চলছে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার, যাতে নভেম্বরের মধ্যে হাওড়া শহরবাসী তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে পারেন। কলকাতা এবং হাওড়ার এই ভোট ঘিরে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।