ভোটের আগে বাইক নিয়ে কি রাস্তায় বেরোনো যাবে না? আমজনতার এই উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে সোমবার বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘ব্যক্তি স্বাধীনতা’কে অগ্রাধিকার দিয়ে আদালত জানিয়ে দিল— প্রমোদভ্রমণ বা ‘হাওয়া খেতে’ বাইক নিয়ে বেরোলে পুলিশ কাউকেই আটকাতে পারবে না। তবে কড়া কোপ পড়েছে বাইক বাহিনীর মেলা বা দলবদ্ধ যাতায়াতের ওপর।
ডিভিশন বেঞ্চের নতুন নির্দেশ: বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনোভাবেই ‘গ্রুপ রাইডিং’ বা দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে একজন নাগরিক যদি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা স্রেফ খোলা হাওয়ায় ঘুরতে বাইক নিয়ে বেরোন, তবে আইনত তাঁকে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার প্রশাসনের নেই।
কমিশন বনাম আদালত: টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশন ডায়মন্ড হারবারের বাইক বাহিনীর দাপটের ভিডিও দেখিয়ে কড়াকড়ির আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু আদালত পালটা প্রশ্ন তোলে, “বিহার বা অসমে কি এমন কড়াকড়ি ছিল? আমি যদি খোলা হাওয়ায় ঘুরতে চাই, কোনো আইন আমায় আটকাতে পারে না।” এমনকি গাড়ির ক্ষেত্রে কেন এমন নিয়ম নেই, সেই প্রশ্নও তোলে আদালত।
ভোটের দিনের জন্য বিশেষ নিয়ম:
২৯ এপ্রিল (ভোটের দিন): ভোট শুরুর ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে থেকে এক বাইকে ২ জন সওয়ার হওয়া নিষিদ্ধ।
ব্যতিক্রম: মেডিকেল ইমার্জেন্সি, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা স্কুলপড়ুয়াদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ দেখালে ছাড় মিলবে।
পুলিশি তৎপরতা: ব্যক্তিগত ভ্রমণের আড়ালে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে পুলিশকে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
কার্যকর হচ্ছে আজ থেকেই: আগামী বুধবার অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ আজ, সোমবার থেকেই আদালতের এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে। ফলে সাধারণ বাইক চালকদের ভয়ের কারণ না থাকলেও, ‘বাইক বাহিনী’ সাজিয়ে দাপাদাপি করলে শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা কিন্তু পরিষ্কার!





