ট্রাম্পের ‘না’! ইরানের শান্তি প্রস্তাব খারিজ হোয়াইট হাউসের, ঘনীভূত হচ্ছে পরমাণু যুদ্ধের মেঘ

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান একাধিক শর্তের ভিত্তিতে সমাধানের পথ খুঁজলেও, মার্কিন প্রশাসনের দাবি—এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্যের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। সোমবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পরমাণু ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

ইরানের তিন দফা প্রস্তাব ও ওয়াশিংটনের আপত্তি:
তেহরানের পক্ষ থেকে যে তিন দফা প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, তার প্রথম ধাপে ছিল ইজরায়েলি ও মার্কিন হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা। দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। সবশেষে তৃতীয় ধাপে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনার কথা বলেছে। তবে ইরানের কৌশল হলো—আগে যুদ্ধবিরতি ও নৌ-অবরোধ মিটে গেলে তবেই তারা পরমাণু ইস্যুতে কথা বলবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য পারমাণবিক ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা বাঞ্ছনীয়।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও সফর বাতিল:
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এমন চুক্তি করতে হবে যাতে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে না পারে।” এই টানাপোড়েনের জেরে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকটি বাতিল হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল করে দিয়েছেন।

রাশিয়ার শরণাপন্ন তেহরান:
আমেরিকার এই কঠোর মনোভাবের পর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমান ও পাকিস্তান সফর শেষ করে সরাসরি মস্কোয় পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়ার সাহায্য নিয়ে ইরান এবার আন্তর্জাতিক স্তরে পাল্টা চাপ তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, আলোচনার টেবিল থেকে সরে এসে পরিস্থিতি এখন ফের রণক্ষেত্রের দিকেই মোড় নিচ্ছে।