একদিকে নির্বাচনের উত্তাপ, অন্যদিকে হাঁসফাঁস করা আবহাওয়া—এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ দক্ষিণবঙ্গ। তবে এবার স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গুমোট গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কাটিয়ে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। পাহাড় থেকে সমতল, আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। মূলত উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং পশ্চিমী বায়ুর প্রভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া:
আবহাওয়া বিজ্ঞানী সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, আগামী ৪-৫ দিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। আজ মঙ্গলবার থেকেই আকাশ মেঘলা থাকবে এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার রাজ্যের ১৪২টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। সেই ভোটের দিনও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বজ্রপাত-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর ও দুই ২৪ পরগনায় ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারি বৃষ্টির (৭-১১ সেমি) সম্ভাবনা থাকছে। মে মাসের শুরু অর্থাৎ ১ মে পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া:
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও ভিজবে বৃষ্টিতে। আজ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে। বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ৩০ এপ্রিলের জন্য। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির (৭-২০ সেমি) পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও করছে হাওয়া অফিস। ৩ মে পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সিলসিলা চলতে পারে।
তাপমাত্রার খতিয়ান:
গত রবিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি কম। তবে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৬ শতাংশের আশেপাশে থাকায় অস্বস্তি কাটছে না। তবে ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে পারদ আরও কিছুটা নামবে এবং গুমোট গরম থেকে মুক্তি পাবেন ভোটাররা। ভোটের দিন বৃষ্টির পূর্বাভাসে সাধারণ মানুষকে ছাতা সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।





