শপথ নেওয়ার পর প্রথম সোমবার। নবান্নে পা রেখেই অ্যাকশন মোডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ মেহনতি মানুষের জন্য বড় ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের প্রান্তিক কারিগরদের উন্নয়নে কেন্দ্রের ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ (PM Vishwakarma Yojana) এবার পুরোদমে চালু হচ্ছে বাংলায়।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগের সুরে বলেন, “আমাদের কামার, কুমোর, স্বর্ণকার, মালাকার, তাঁতি থেকে নাপিত—প্রায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষ এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করে রেখেছিলেন। কিন্তু আগের সরকার সেই আবেদনপত্রগুলি আটকে রেখেছিল, জেলাশাসকদের মাধ্যমে কেন্দ্রের MSME দফতরে পাঠাতে দেয়নি। আমরা আজই সেই ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন দ্রুত দিল্লিতে পাঠানোর ব্যবস্থা নিলাম।” শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া রাজ্যের কারিগর মহলে।
কী এই বিশ্বকর্মা যোজনা?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। এটি মূলত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প মন্ত্রকের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্কিম। যারা বংশপরম্পরায় হাতের কাজ বা কারিগরি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার যোগ্য করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
১৮ বছর বয়স হলেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে। মোট ১৮ ধরনের পেশার মানুষ এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। তালিকায় রয়েছেন নৌকা প্রস্তুতকারী, কামার, ছুতোর, স্বর্ণকার, চর্মকার, রাজমিস্ত্রি, নাপিত, ধোপা, কুমোর, মূর্তিশিল্পী, মালাকার, দর্জি এবং মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারীরা।
প্রকল্পের বিশেষ সুবিধাগুলি একনজরে:
১. টুলকিট অনুদান: নিজের কাজের সরঞ্জাম কেনার জন্য এককালীন ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
২. প্রশিক্ষণ ও স্টাইপেন্ড: কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৫-৭ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড পাওয়া যায়।
৩. বিনা সুদে ঋণ: প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম দফায় ১৮ মাসের জন্য ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ পাওয়া যায়।
৪. ডিজিটাল ইনসেন্টিভ: ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতি ট্রানজাকশনে ১ টাকা করে ইনসেন্টিভ দেবে কেন্দ্র।
৫. মার্কেটিং সাপোর্ট: উৎপাদিত পণ্য ব্র্যান্ডিং এবং বড় বাজারে বিক্রির জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়।
বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেটেই শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি বাংলায় কার্যকর করাই এখন নতুন সরকারের অগ্রাধিকার। পিএম বিশ্বকর্মার পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত এবং উজ্জ্বলা যোজনা নিয়েও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।





