পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের একবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। সোমবার নির্ধারিত সময়েই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেন তিনি। এর আগে গত ১ মে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন কিছু তথ্যের খোঁজে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি-সহ তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান সুজিত বসু। তাঁর হাতে ছিল ফাইলের স্তূপ। জানা গেছে, আগের দিনের জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল, যার ব্যাখ্যার জন্যই তাঁকে পুনরায় তলব করা হয়েছে। এর আগে ৬ মে-ও তাঁকে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে তিনি হাজিরা দিতে পারেননি। ভোট মিটতেই এবার কোমর বেঁধে তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
গত ১ মে সুজিত বসু যখন হাজিরা দিয়েছিলেন, তখন প্রায় ৯ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করা হয়েছিল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা সেই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, “তদন্তে সহযোগিতার জন্য ডাকা হলে অবশ্যই আসব। ব্যবসা করা কোনো অপরাধ নয়, চুরি করাটা অপরাধ।” তবে তদন্তকারীদের দাবি, পুর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীর কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখছেন সুজিত বসু। গত ২৪ এপ্রিল এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, “গত ১২ জানুয়ারি বাড়িতে রেইড হয়েছে। যেদিন নমিনেশন দিতে যাচ্ছি, ঠিক সেদিনই নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এটা পরিষ্কার একটা ষড়যন্ত্র।” তাঁর আইনজীবী অমলেশ রায়ের দাবি, ইডির পেশ করা চার্জশিটে সুজিত বসুর নাম নেই, তাই এই তলব অযৌক্তিক। এই তলবের বিরুদ্ধে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন, যেখানে আদালত ২৪ এপ্রিলের পরিবর্তে ১ মে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এখন দেখার, সোমবারের এই দীর্ঘ জেরা শেষে নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে কি না।





