পুরুষ হয়েও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা! তৃণমূল নেতার কাণ্ডে তোলপাড় মেদিনীপুর

রাজ্যজুড়ে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে ফের এক বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। বহরমপুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় প্রকাশ্যে এল এক পুরুষ ‘লক্ষ্মী’-র হদিশ। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগে চন্দ্রকোণা টাউন থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে উত্তম কুমার সাউ নামে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে।

চন্দ্রকোণা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার সাউ পেশায় ঠিকা কর্মী। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই স্থানীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, সরকারি তহবিলের যে টাকা অবৈধভাবে ওই নেতা নিয়েছেন, তা অবিলম্বে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে চন্দ্রকোণা টাউন থানার পুলিশ। জেরার মুখে উত্তম কুমার সাউ স্বীকার করেছেন যে, সরকারি নথিতে বেনিফিসিয়ারি বা উপভোক্তা হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে। তবে নিজের দোষ ঢাকতে তিনি অদ্ভুত এক সাফাই দিয়েছেন। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দাবি, “উপভোক্তা হিসেবে যে আমার নাম তালিকায় রয়েছে, তা আমি জানতামই না। বিষয়টি সম্প্রতি আমার নজরে আসে।” তাঁর আরও দাবি, তালিকায় নাম থাকলেও এই প্রকল্পের টাকা নাকি তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত। যদিও তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছিল। সেখানেও এক ব্যক্তি স্বীকার করেছিলেন যে, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকত। পরপর এমন দুটি ঘটনায় রাজ্যের সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। বিরোধীরা বলছেন, শাসকদলের মদত ছাড়া সরকারি প্রকল্পের এমন অপব্যবহার অসম্ভব। বিশেষ করে পঞ্চায়েত ও স্থানীয় স্তরে নেতাদের কারসাজিতে প্রকল্পের টাকা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে না পৌঁছে এভাবে দলীয় নেতাদের পকেটে ঢুকছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, উত্তম কুমার সাউয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, তিনি বেনিফিসিয়ারি তালিকার একজন নথিভুক্ত ব্যক্তি। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনায় সরাসরি মুখ খুলতে না চাইলেও, বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এই বিষয়টি নিয়ে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, গোটা রাজ্যজুড়ে এই ধরনের বেনিয়মের একটি বড়সড় জাল বিছানো রয়েছে। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে আর কতজনের নাম সামনে আসে এবং রাজ্য সরকার এই ধরনের দুর্নীতি রুখতে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy