রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল যে তিমিরে ছিল, সেখানেই রয়ে গেল। তৃণমূলকে হারিয়ে রাজ্যের মসনদে বিজেপি বসলেও, দলের অন্দরের দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার গভীর রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত। ক্লাবের দখলদারিকে কেন্দ্র করে বিজেপির আদি ও নব্য দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এলাকা উত্তাল হয়ে উঠল। এই ঘটনায় খোদ দলের জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দার আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বারাসতের হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন একটি ক্লাবকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ক্লাবটি এতদিন বিজেপির পুরনো বা আদি কার্যকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর তৃণমূল থেকে আসা নব্য বিজেপি সমর্থকদের একাংশ ক্লাবের কর্তৃত্ব হাতে নিতে চাইলে বিবাদের সূত্রপাত হয়। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই টানাপোড়েন বুধবার রাতে চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। প্রথমে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয়ে মুহূর্তের মধ্যে তা লাঠিসোটা ও শাবল নিয়ে সংঘর্ষে পরিণত হয়। অভিযোগ, দু’পক্ষই একে অপরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়েই বারাসত থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে রাতেই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষের জেরে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর জখম হন। তাঁদের বারাসত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীনও দুই গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি বেধে যায়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীনই বিজেপির জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, দলেরই একাংশ কর্মীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বিজেপির স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, বারাসতের নবনির্বাচিত বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী এবং জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দারের অনুগামীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। এই ঘটনার জেরে বারাসত শহরের টাকি রোড ও হাসপাতাল রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নবনির্বাচিত বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় নিজে রাতে হাসপাতালে গিয়ে আহত কর্মীদের খোঁজখবর নেন। অন্যদিকে, বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস মিত্র এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নব্য বিজেপিদের একটি অংশ দলের মধ্যে অশান্তি ছড়াচ্ছে। যারা অতীতে বিজেপি সমর্থকদের ওপর অত্যাচার করত, তারাই এখন দলে ঢুকে গোলমাল পাকাচ্ছে। আমি বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব।”
বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পুষ্পা জানিয়েছেন, ঘটনায় দুটি আলাদা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। রাজ্য শাসনের ব্যাটন হাতে পাওয়ার পরই দলের এই অভ্যন্তরীণ চিত্র বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।





