রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক রদবদলের ইঙ্গিত মিলছিল। তবে এবার যা ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন। নবান্ন ও লালবাজার সূত্রে খবর, শাসকদলের প্রাক্তন সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে মাঝারি ও ছোট মাপের— মোট ১১০০ জন তৃণমূল নেতার জন্য বরাদ্দ থাকা সরকারি পুলিশি নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে।
বিগত দিনে দেখা যেত, বহু নেতার পেছনেই সরকারি খরচে একাধিক বন্দুকধারী পুলিশ বা কনস্টেবল মোতায়েন থাকত। এতে একদিকে যেমন রাজকোষের ওপর চাপ বাড়ছিল, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীকে ভিআইপি সুরক্ষায় ব্যস্ত থাকতে হতো।
কেন নেওয়া হলো এই কড়া সিদ্ধান্ত?
পুলিশের ঘাটতি মেটানো: কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের একটা বড় অংশে দীর্ঘদিন ধরেই কনস্টেবল ও হোমগার্ডের ঘাটতি রয়েছে। এই ১১০০ নেতার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার ফলে হাজার হাজার পুলিশ কর্মী এক ধাক্কায় ‘ফ্রি’ বা মুক্ত হলেন। এবার তাঁদের সরাসরি থানা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় রাস্তায় ডিউটিতে নামানো যাবে।
ভিআইপি সংস্কৃতি (VIP Culture) দূর করা: নতুন প্রশাসনের লক্ষ্য হলো আমজনতার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ক্ষমতার দম্ভ বা ভিআইপি সংস্কৃতিতে রাশ টানা।
রাজস্ব সাশ্রয়: নেতাদের পেছনে থাকা পুলিশের গাড়ি, জ্বালানি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বন্ধ হওয়ায় সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত যেমন সাহসী, তেমনই তাৎপর্যপূর্ণ। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ থানার কাজের গতি অনেকটাই বাড়বে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের পক্ষে সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা আইনি পদক্ষেপ বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।





