শ্বশুরবাড়ি যেন এক নরককুণ্ড! বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় কাটারা হিলসের বিলাসবহুল আবাসন থেকে উদ্ধার হলো প্রাক্তন ‘মিস পুণে’ তথা বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মী ত্বিশা শর্মার (৩৩) দেহ। মৃত্যুর সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে। এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় পণের দাবিতে খুনের সরাসরি অভিযোগ উঠেছে ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শাশুড়ি গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং স্বামী সমর্থ সিং পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবিতে ত্বিশার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হতো। মৃত্যুর ঠিক আগের দিনও ত্বিশা তাঁর মাকে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে লিখেছিলেন, “এখানে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে, আমি ফেঁসে গেছি।” এই হাইপ্রোফাইল মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার মামলা রুজু করলেও তা মানতে নারাজ তরুণীর পরিবার। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ভোপাল এইমসের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও মৃতার বাবা নবনিধি শর্মার অভিযোগ, শাশুড়ির প্রাক্তন বিচারপতির পদ এবং স্বামীর আইনি প্রভাব খাটিয়ে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রভাবশালীদের এই চক্র থেকে মেয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার পেতে এবার সরব হয়েছে পরিবার। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি, দিল্লির এইমসে (AIIMS) নতুন করে নিরপেক্ষ চিকিৎসকমণ্ডলী দ্বারা ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছেন মৃতার বাবা। একই সঙ্গে, ভোপালে ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে আশঙ্কা করে মামলাটি ভিন রাজ্যে স্থানান্তরের আর্জি জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত স্বামীর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে ভোপাল আদালত। আইন ও বিচারের রক্ষকদের ঘরেই আইনের এমন চরম লঙ্ঘনের এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।





