বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ১৫ বছর পর এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে মসনদ দখল করেছে বিজেপি। আর এই পালাবদলের রেশ ভোট গণনার পর থেকেই আছড়ে পড়তে শুরু করেছে প্রশাসনের অন্দরমহলে। রীতি মেনেই মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পদত্যাগের খবর আসতে শুরু করেছে। এই প্রশাসনিক রদবদলের আবহে সবথেকে বড় খবরটি এল কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। পদত্যাগ করলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত।
রাজ্যের মুখ্য আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত কিশোর দত্ত মঙ্গলবার সকালেই তাঁর পদত্যাগপত্র রাজ্যপাল আর.এন. রবির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর এই ইস্তফা প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি করলেও, এটি একটি দীর্ঘকালীন রীতি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে সাধারণত পূর্ববর্তী সরকারের নিযুক্ত শীর্ষ পদাধিকারীরা নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
কিশোর দত্তের এজি হিসেবে যাত্রা ছিল যথেষ্ট ঘটনাবহুল। তৃণমূল সরকারের আমলে তিনি দু’বার এই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর, যখন ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় রাজ্য সরকার আইনিভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি প্রথমবার পদত্যাগ করেন। সেই সময় সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তবে ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় হঠাৎ পদত্যাগ করলে পুনরায় কিশোর দত্তকেই এই গুরুদায়িত্বে ফিরিয়ে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সকালে কিশোর দত্তের ইস্তফার খবরের আগেই কলকাতা হাইকোর্টে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বিজেপির লিগাল সেলের আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন জানান যে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে, তাই রাজ্য সরকার সংক্রান্ত সমস্ত মামলার রায়দান যেন আপাতত স্থগিত রাখা হয়। প্রধান বিচারপতি তাঁদের এই আবেদনে আশ্বস্ত করেছেন বলে খবর। এর কিছু পরেই কিশোর দত্তের পদত্যাগের খবরটি নিশ্চিত হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাডভোকেট জেনারেলের পর এবার পুলিশের শীর্ষস্তর এবং প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও দ্রুত বড়সড় পরিবর্তনের ঢেউ আসতে চলেছে।





