নবান্নে শুভেন্দু-রাজ! মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে কাঁপল সচিবালয়, আজই কি বড় রদবদল?

ইতিহাস তৈরি হলো বাংলার প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে। সোমবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে যখন কনভয় এসে থামল নবান্নের গেটে, তখন পরিবেশটাই ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা হিসেবে একসময় যে ভবনের চৌকাঠে আইনি লড়াই লড়তে হতো, আজ সেখানেই তিনি প্রবেশ করলেন রাজ্যের প্রধান সেবক হিসেবে। তাঁর আগমনে নবান্ন চত্বরে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল লাল কার্পেট, দেওয়া হয় রাজকীয় ‘গার্ড অফ অনার’।

মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিব। গেট দিয়ে ঢোকার সময় নবান্নের কর্মীদের মধ্যে যে উন্মাদনা চোখে পড়ল, তা কার্যত নজিরবিহীন। শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা মাত্রই কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় প্রবল হাততালি। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা ফূর্তিতে ফেটে পড়েন সকলে। অনেক সরকারি কর্মীর কণ্ঠেই এদিন শোনা যায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। নবান্নের প্রতিটি কোণে ধ্বনিত হয় সেই জয়ধ্বনি। মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কর্মচারীরা।

২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর শেষবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে নবান্নে এসেছিলেন শুভেন্দু। সেদিন সঙ্গে ছিলেন মাত্র তিনজন বিধায়ক। তৎকালীন মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতে আসা সেই শুভেন্দু আর আজকের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সময়ের ব্যবধান আড়াই বছরেরও কম, কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে ১৮০ ডিগ্রি।

দায়িত্ব নিয়েই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবারই নবান্ন সভাঘরে জেলাশাসকদের (DM) সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসছেন তিনি। রাজ্যের উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। এরপরই তিনি বৈঠকে বসবেন বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে। বাংলার মাটিতে বিজেপির প্রথম সরকারের লক্ষ্য যে কেবল ক্ষমতা দখল নয়, বরং প্রকৃত সুশাসন— তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু।

তবে দিনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিটি তোলা রয়েছে বিকেলের জন্য। বিকেল ৫টায় রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ‍্য পুলিশের ডিজি (DG), এডিজি (ADG), আইজি (IG) থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার। এছাড়া হাওড়া ও অন্যান্য সব কমিশনারেটের সিপি এবং সব জেলার এসপি-দেরও তলব করা হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন জিআরপি (GRP), এসটিএফ (STF) এবং সিআইডি (CID)-র দুঁদে আধিকারিকরা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, নতুন সরকারের জমানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে কড়া বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম দিনেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের এই তৎপরতা দেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা— আজই হয়তো বড় কোনো রদবদল বা কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy