পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক অলিন্দে এখন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বইছে বড়সড় সিদ্ধান্তের হাওয়া। সোমবার নবান্নে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এক ঐতিহাসিক বার্তার ইঙ্গিত দিলেন। নতুন সরকারের প্রথম কয়েকটি ক্যাবিনেট বৈঠকের রেশ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী সোমবার অর্থাৎ পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং বহুল প্রতীক্ষিত বেতন কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যের প্রায় লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে রাজ্য কর্মীরা বকেয়া ডিএ এবং নতুন বেতন কমিশনের দাবিতে সরব ছিলেন। রাজপথ থেকে আদালত—সর্বত্রই এই আন্দোলনের আঁচ অনুভূত হয়েছে। সোমবার শুভেন্দু অধিকারী সেই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, “আমরা চাই সরকারি কর্মীরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার এবং সুবিধা পান। আমরা তাঁদের দাবিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”
তবে স্রেফ আবেগ নয়, আর্থিক ভারসাম্যের দিকেও যে সরকার সজাগ দৃষ্টি রাখছে, তা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় অনুদানের সংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়— এই সবকটি দিক খতিয়ে দেখেই বেতন কমিশনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায়, “আমরা কোনও তাড়াহুড়ো করে বা স্রেফ চমক দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। কর্মীদের স্বার্থ এবং রাজ্যের আর্থিক স্থিতিশীলতা—দুটোই আমাদের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতন কমিশন এবং ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজ্যের বাজেটে বড়সড় প্রভাব পড়বে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে বাজারে নগদের জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শুধু বর্তমান কর্মীরাই নন, বরং কয়েক লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীও দিন গুনছেন। আগামী সোমবারের ক্যাবিনেট বৈঠকটি তাই পশ্চিমবঙ্গের সরকারি পরিকাঠামোয় এক সন্ধিক্ষণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





