রাজ্যের শাসক দলের টালমাটাল পরিস্থিতিতে মালদার রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন সরগরম। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে একসময় যাঁরা কংগ্রেসে ছিলেন, তাঁদের ফের ঘরে ফেরার আহ্বান জানালেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। তবে এই ‘ঘরওয়াপসি’র পথে কোনো ভাবেই যেন ‘দাগী’ বা অপরাধীরা ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি।
কী বলছেন ইশা খান চৌধুরী? সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই নির্দেশিকায় ইশা খান চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য দলের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের কংগ্রেসে যোগদানের ক্ষেত্রে জেলা, ব্লক ও অঞ্চল কমিটির সবুজ সংকেত বাধ্যতামূলক। ব্লক কমিটি না থাকায় আপাতত ব্লক নির্বাচনী কমিটি এই দায়িত্ব পালন করবে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে চলে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’।
যোগদানের নতুন শর্তাবলি:
অপরাধীদের প্রবেশ নিষেধ: কোনো রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের দলে নেওয়া হবে না।
শর্তহীন যোগদান: কোনো প্রকার পূর্বশর্ত দিয়ে কংগ্রেসে আসা যাবে না।
তদারকি ও পর্যবেক্ষণ: দলত্যাগ করে কংগ্রেসে আসা পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হবে এবং জেলা ও ব্লক নেতৃত্ব তাঁদের কাজের তদারকি করবে।
শৃঙ্খলার কঠোর প্রয়োগ: কংগ্রেসের আদর্শ বা শৃঙ্খলা অমান্য করলে যে কোনো সময় সদস্যপদ বাতিল করা হবে।
কেন এই সতর্কতা? বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের একাধিক নেতা ও বিধায়ক দল ছাড়ার সুযোগ খুঁজছেন এবং তাঁরা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন। মূলত সেই সুযোগে কোনো অপরাধী বা বিতর্কিত ব্যক্তি যেন দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে, তা আটকাতেই ইশা খানের এই আগাম সতর্কবার্তা।
ইশা খান চৌধুরী বলেন, “যাঁরা একসময় আমাদের ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের স্বাগত। কিন্তু তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকে পিঠ বাঁচাতে কংগ্রেসে ঢুকতে চাইছেন। আমরা কোনো অপরাধীকে দলে প্রশ্রয় দেব না।”
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই বিষয়টি নিয়ে খুব একটা মুখ খুলতে চাইছে না। তৃণমূলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যাঁরা সুযোগসন্ধানী, তাঁরা দল ছাড়তেই পারেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে দল গোছানোর কাজ করছেন। কে কোথায় গেল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।”
মালদার এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।





