মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যকর মোড়। ৩৩ বছর বয়সি এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর তদন্তে নেমে এবার তাঁর প্রাক্তন বিচারক শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আনল সিবিআই। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, কেবল পণ নয়, পুত্রবধূর চরিত্রে কলঙ্ক লেপন এবং জোর করে গর্ভপাত করানোর মতো জঘন্য অপরাধেও লিপ্ত ছিলেন শাশুড়ি। সিবিআই-এর জোরালো সওয়ালের পর অবশেষে গিরিবালার আগাম জামিন বাতিল করে দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।
বুধবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের অবকাশকালীন বিচারপতি দেবনারায়ণ মিশ্র ১৭ পাতার এক দীর্ঘ রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন আদেশ খারিজ করে দেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে গিরিবালা সিংকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা জরুরি। সিবিআই আদালতকে জানিয়েছে, ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালার মধ্যে উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে এই ষড়যন্ত্রের নীল নকশা স্পষ্ট। ত্বিষা যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন তাঁর অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বামী ও শাশুড়ি মিলে তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকি জোর করে গর্ভপাত করানো হয়েছিল বলেও সিবিআই আদালতে দাবি করেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ত্বিষার শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলি অত্যন্ত সন্দেহজনক। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং মেডিক্যাল কুয়েরি অনুযায়ী, ত্বিষার কবজি এবং কনুইতে যে ক্ষত ছিল, তা ঝুলন্ত দেহ নামানোর সময় হওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ, মৃত্যুর আগেই অভিনেত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। পণের দাবিতে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হতো ত্বিষাকে। শাশুড়ি ও স্বামীর দাবি ছিল, ত্বিষার পরিবার যে পণ দিয়েছে, তা তাঁদের সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।
শুধু তাই নয়, গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে সিবিআই। তদন্তকারীদের মতে, মামলার মোড় ঘোরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নির্বাচিত ভিডিও ক্লিপ চতুরতার সঙ্গে লিক করেছিলেন প্রাক্তন এই বিচারক। গিরিবালা সিং ৩৬ বছর বিচার বিভাগে কাজ করেছেন, তাই আইন সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান রয়েছে। তিনি এই জ্ঞান ব্যবহার করেই তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ কেন্দ্রীয় সংস্থার।
ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআই ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে এবং মৃতার স্বামী সমর্থ সিংকে হেফাজতে নিয়েছে। হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ত্বিষার পরিবার। আইনজীবীদের মতে, গিরিবালার এখন উচিত সিবিআই-এর কাছে আত্মসমর্পণ করে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা। গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সিবিআই-এর নতুন এফআইআর-এ স্বামী সমর্থ এবং শাশুড়ি গিরিবালা—উভয়কেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার প্রতিটি নতুন মোড় এখন ভোপাল ছাড়িয়ে গোটা দেশের নজর কেড়েছে। ত্বিষার পরিবার এখন একটাই প্রতীক্ষায়—সত্যিই কি মিলবে সুবিচার?





