২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হেভিওয়েট নেতা অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার ‘মেসি-কাণ্ড’ নিয়ে সরাসরি ময়দানে নামলেন ঘটনার মূল অভিযুক্ত শতদ্রু দত্ত। এতদিন কেন চুপ ছিলেন এবং তাঁর ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।
বিস্ফোরক সোশাল মিডিয়া পোস্ট
মঙ্গলবার অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই ফেসবুকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন শতদ্রু। সেখানে বিদায়ী মন্ত্রীর পরাজয়ের ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “তোমার খেলা শেষ, এবার আমার খেলা শুরু।” এর পরপরই তিনি অভিযোগের ঝুলি উপুড় করেন। শতদ্রুর দাবি, যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে যে বিতর্কিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে ভিআইপি কার্ড এবং বিশেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য তাঁকে ও তাঁর সংস্থাকে প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ।
‘ফাঁসানো হয়েছে আমাকে’
শতদ্রু দত্তের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে এবং তাঁর দীর্ঘদিনের কেরিয়ার নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল যুবভারতীতে। কয়েক হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। সেই সময় পুলিশ শতদ্রুকে গ্রেফতার করে এবং প্রায় ৩৭ দিন জেল খাটতে হয় তাঁকে।
পরিবারকে খুনের হুমকি?
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এতদিন কেন কোনো মন্তব্য করেননি? এই প্রশ্নের উত্তরে শতদ্রু আজ জানিয়েছেন, মুখ খুললে তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, “পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এতদিন চুপচাপ সব সহ্য করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলেছে। আর ভয় নয়, এবার সমস্ত সত্য প্রমাণ-সহ সামনে আনব।” এমনকি এই ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
জল কতদূর গড়াবে?
যুবভারতীর সেই রাতে মেসির চারপাশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিড় এবং দর্শকদের অব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, শতদ্রুর এই নতুন বয়ান তাতে ঘৃতাহুতি দিল। যদিও তিনি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নেননি, তবে তাঁর ‘ইঙ্গিত’ যে ঠিক কার দিকে, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পর এই ‘মেসি-ফাঁস’ মামলা আগামী দিনে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।





