তৃণমূলের অন্দরে এবার মহাবিস্ফোরণ! ভরা বৈঠকে অভিষেককে সোজাসুজি নিশানা? ফাঁস হলো ভেতরের খবর

বাইরে যখন হকার আন্দোলন নিয়ে একজোট হওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে লেগে গেল চরম ‘গৃহযুদ্ধ’! মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দলের উচ্চপর্যায়ের বিধায়ক বৈঠকের ভেতরে যে এমন নজিরবিহীন ঝড় উঠবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠক চলাকালীন খোদ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোজাসুজি নিশানা করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দলেরই একাধিক প্রবীণ ও দাপুটে বিধায়ক।

ভোটের পর যখন সব ঠিকঠাক চলছিল, তখন দলের এই মেগা মিটিংয়ে হঠাৎ কেন সেনাপতিকে লক্ষ্য করে তির ছোঁড়া হলো, তা নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ রাজনীতি।

কেন হঠাৎ অভিষেককে নিশানা?

বৈঠকের অন্দরের খবর, দলের নতুন নীতি, টিকিট বণ্টন এবং পুরনো বনাম নতুনের লড়াই নিয়ে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল বিধায়কের দাবি, বৈঠকে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কিছু নেতার একনায়কতন্ত্র নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ যে দলের সব স্তরের বিধায়করা ভালোভেব নিচ্ছেন না, তা খোদ মমতার সামনেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়।

মমতার সামনেই চরম হট্টগোল!

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধায়কদের একাংশ যখন ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন, তখন পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অবশ্য অত্যন্ত শান্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন। তবে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই যেভাবে অভিষেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলো, তাকে রাজনৈতিক মহল স্রেফ ‘ক্ষোভ’ হিসেবে দেখছে না; একে দেখা হচ্ছে সরাসরি ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় ফাটল হিসেবে।

ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা, কিন্তু লাভ হবে কি?

বৈঠক শেষে অবশ্য দলের শীর্ষ মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ছিল এবং কোনো কোন্দল নেই। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই তত্ত্ব মানতে নারাজ।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: তৃণমূলের ভেতরে ‘ওল্ড গার্ড’ বনাম ‘নিউ জেনারেশন’-এর যে ঠান্ডা লড়াই এতদিন চাপা ছিল, তা এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিল। হকার উচ্ছেদের মতো বড় আন্দোলনের ডাক দিয়ে যখন দল ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে, ঠিক তখনই ঘরের ভেতরের এই বিদ্রোহ মমতার কপালেও চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিল।

সেনাপতির বিরুদ্ধে বিধায়কদের এই খোলাখুলি বিদ্রোহের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার কী পদক্ষেপ নেন, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এর রাশ টানবেন? আপনার কী মনে হয়, তৃণমূলে কি সত্যিই ভাঙন ধরছে? কমেন্ট বক্সে আপনার রায় জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy