বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট বণ্টন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন চরমে। এবার সেই বিদ্রোহ দমনে রণংদেহী মূর্তি ধরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মন্তেশ্বরে প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সমর্থনে জনসভা করতে গিয়ে নিজের দলেরই এক প্রভাবশালী নেতাকে কার্যত দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
“দলে না পোষালে বেরিয়ে যান!”
মন্তেশ্বরে টিকিট না পেয়ে ব্লক সভাপতি আহমেদ হোসেন শেখের অনুগামীদের সঙ্গে সিদ্দিকুল্লা শিবিরের সংঘর্ষ এবং বোমাবাজির ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ মমতা। মঞ্চ থেকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন:
“কেউ টিকিট চাইতেই পারেন, তাতে অপরাধ নেই। কিন্তু দল যাঁকে প্রতীক দিয়েছে, তিনিই প্রার্থী। দলে না পোষালে কেউ বেরিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা চলবে না।”
বিজেপি-যোগ নিয়ে বিস্ফোরক মমতা
বিদ্রোহী নেতার নাম না করে মমতা আরও বলেন, “আমার কাছে টিকিট চেয়েছিল। টিকিট পায়নি বলে এখন বিজেপিকে সমর্থন করবে? টাকা আছে বলে গুন্ডামি-মস্তানি করবে? আমি পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, বিজেপিকে টাকা দেওয়া বন্ধ করো। আমার মিটিংয়েও তুমি আসোনি, তোমাকে আমি তাড়িয়ে দেব।”
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই: এনআরসি ইস্যু
মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে মমতা মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে বিপদ ডেকে আনা। তিনি বলেন, “তোমার কমিউনিটির ভোট যখন কেটেছিল, তখন কোথায় ছিলে? আমি নিজে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম তালিকায় তুলে এনেছি। এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প রুখতে চাইলে জোড়াফুলেই আস্থা রাখতে হবে।”
প্রেক্ষাপট: মন্তেশ্বরে বোমাবাজি
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর থেকেই মন্তেশ্বরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াই তুঙ্গে। আহমেদ হোসেন শেখ ও সিদ্দিকুল্লার অনুগামীদের বিবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এলাকা, এমনকি পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়েছে। এদিন দলনেত্রীর কড়া বার্তার পর মন্তেশ্বরের রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, সেটাই দেখার।





