টাকার পতন রুখতে এবং দেশের অর্থনীতিতে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার এক বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারী (FII/FPI) এবং ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস (BIS)-এর জন্য সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই ঘোষণার পরেই ডলারের বিপরীতে এক ধাক্কায় ৫০ পয়সা শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় রুপি। শুক্রবার ট্রেডিং শেষে রুপি ৯৫.২৪৫ স্তরে পৌঁছায়।
কী পরিবর্তন আনল কেন্দ্র? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের ওপর ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতদিন বিদেশি লগ্নিকারীদের বন্ডের ওপর ১২.৫ শতাংশ লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (LTCG) এবং ২০ শতাংশ পর্যন্ত উইথহোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হতো। করের এই বোঝা মুছে ফেলায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে এখন বেশি মুনাফা থাকবে, যা ভারতের ঋণ বাজারকে আন্তর্জাতিক মহলে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
আরবিআই-এর কৌশলী পদক্ষেপ: কেন্দ্রের পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াও (RBI) বিদেশি মূলধন আকর্ষণে সক্রিয় হয়েছে।
বন্ডে সহজ প্রবেশ: ১৫, ৩০ ও ৪০ বছরের মেয়াদি নতুন সরকারি বন্ডগুলিকে ‘ফুললি অ্যাক্সেসিবল রুট’ (FAR)-এর আওতায় আনা হয়েছে।
বিধিনিষেধ শিথিল: বিদেশি পোর্টফোলিও লগ্নিকারীদের (FPI) জন্য স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ ও কনসেনট্রেশন ক্যাপের মতো জটিল নিয়মগুলো আরও সহজ করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? চলতি বছরে এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর তালিকায় সামনের সারিতে রয়েছে রুপি। বছরের শুরু থেকে মুদ্রার মান ৬ শতাংশেরও বেশি কমেছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি লগ্নিকারীদের লাগাতার পুঁজি তুলে নেওয়ার কারণেই টাকার ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। সরকার চাইছে, কর ছাড়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াতে।
বাজারের ভবিষ্যৎ: বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি বন্ডে কর ছাড়ের ফলে আগামী দিনে দেশের ঋণ বাজারে বিদেশি অর্থের জোয়ার আসতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রুপির মানকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকছে।





