ট্রাম্পের ‘নরককুণ্ড’ মন্তব্যের মোক্ষম জবাব! ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিল ইরান

ভারত ও চীনকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নরককুণ্ড’ (Hell-hole) মন্তব্যের জেরে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যকে ‘অনুচিত ও অরুচিকর’ বলে পাল্টা তোপ দেগেছে। তবে এবার ভারতের সমর্থনে এবং ট্রাম্পের বিরোধিতায় এক অভাবনীয় কায়দায় রুখে দাঁড়াল ইরান। মুম্বইতে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল সরাসরি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছে— ‘কাভি ইন্ডিয়া আকে তো দেখো!’ (আগে একবার ভারতে এসে দেখে যাও!)।

ইরানের ‘সাংস্কৃতিক ডিটক্স’ দাওয়াই:
শুক্রবার মুম্বইয়ের ইরান কনস্যুলেট তাদের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি চমৎকার ভিডিও শেয়ার করেছে। যেখানে মহারাষ্ট্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, কোলাহলপূর্ণ মুম্বই, গণেশ চতুর্থীর মহোৎসব এবং সাতারা মালভূমির নিস্তব্ধ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে ইরান লিখেছে, ট্রাম্পের জন্য একটি ‘একমুখী সাংস্কৃতিক ডিটক্স’-এর ব্যবস্থা করা দরকার। এর ফলে তাঁর ‘অহেতুক বকবকানি’ কমতে পারে বলেও কটাক্ষ করেছে তেহরান।

আসল ‘নরককুণ্ড’ কে?
শুধু মুম্বই নয়, হায়দরাবাদের ইরান কনস্যুলেটও ভারতের পক্ষ নিয়ে বলেছে যে ভারত ও চীন হলো বিশ্ব সভ্যতার আঁতুড়ঘর। ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে তারা আরও যোগ করে, “আসল নরককুণ্ড তো সেটাই, যেখানকার যুদ্ধাপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন।”

বিতর্কের সূত্রপাত:
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে মাইকেল স্যাভেজ নামক এক সঞ্চালক দাবি করেন যে, জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে ভারত ও চীনের মতো ‘নরককুণ্ড’ থেকে গর্ভবতী মহিলারা আমেরিকায় ভিড় জমান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই পডকাস্টের প্রতিলিপি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই বিতর্ক দানা বাঁধে। যদিও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ট্রাম্প ভারতকে ‘মহান দেশ’ এবং মোদীকে ‘ভাল বন্ধু’ বলে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ভারতের অপমান মেনে নেয়নি বন্ধু দেশ ইরান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy