বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর বিমানে বড়সড় অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ৬ই৬০১৭ (6E6017) নম্বর উড়ানটি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই বিমানের অন্দরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো কেবিন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যা দেখে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তড়িঘড়ি পদক্ষেপে সকল যাত্রী ও বিমানকর্মীদের সুরক্ষিতভাবে নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও, উদ্ধারকার্যের সময় চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, বিমানটি থেকে নিরাপদে নিচে নামার জন্য যে আপৎকালীন স্লাইড (Emergency Slide) খোলার কথা ছিল, তা কাজই করেনি। ফলে যাত্রীদের জীবন বাজি রেখে বিমানের ডানার ওপর গিয়ে দাঁড়াতে হয়। সেখান থেকে কোনোমতে আবার বিমানের অন্য কোনো দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে বিকল্প পথে নামতে বাধ্য হন তাঁরা। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। দীপন কুইটার কান্নান নামে এক যাত্রী নিজের ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতার ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, “বিমানের উদ্ধারকার্য শুরু হওয়ার পর ডানদিকের ওভার-উইং এক্সিটের স্লাইডটি খোলেনি। ফলে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে বিমানের ডানার ওপর চলে যেতে হয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত, অনেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক জখম হতে পারতেন। এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভয়াবহ।”
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, “২৬ মে বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাইগামী বিমানটি টেক-অফের জন্য রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ধোঁয়া লক্ষ্য করা যায়। সুরক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে সমস্ত যাত্রী ও বিমানকর্মীদের বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। যাত্রীদের টার্মিনালে নিয়ে গিয়ে তাঁদের জলযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প বিমানের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।”
তবে বিমানটির ভেতরে ঠিক কী কারণে আগুন বা ধোঁয়ার সৃষ্টি হলো এবং জরুরি স্লাইড কেন কাজ করল না—তা নিয়ে বিমান সংস্থাটি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। যাত্রীদের সুরক্ষায় ইন্ডিগোর গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন অনেকেই। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্লাইড না খোলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর জন্য যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। আপাতত সমস্ত যাত্রী সুরক্ষিত থাকলেও এই ঘটনাটি বিমানযাত্রার সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দিল।





