টার্গেটে ছিল আরও ৭ জন! ১০ জনকে খতম করার ছক কষেছিল সাইকো কিলার গুরপ্রীত, এনকাউন্টারে ফাঁস হাড়হিম করা তথ্য

উত্তর প্রদেশের চন্দৌলিতে এক রুদ্ধশ্বাস এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা গুরপ্রীত সিং। তবে সে কেবল এক সাধারণ অপরাধী ছিল না, বরং ছিল এক চরম মানসিক বিকারগ্রস্ত বা ‘সাইকো কিলার’। পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গুরপ্রীতের খুনের নেশা এতটাই প্রবল ছিল যে, সময়মতো তাকে আটকানো না গেলে মৃতের সংখ্যা ১০ ছাড়িয়ে যেত। তার কাছে থাকা ১০টি কার্তুজের মধ্যে ৩টি সে ব্যবহার করেছিল ৩ জনকে মারতে, বাকি ৭টি ছিল তার পরবর্তী শিকারদের জন্য।

যেভাবে শুরু খুনের তাণ্ডব
৪৫ বছর বয়সী গুরপ্রীত সিং আদতে পাঞ্জাবের তারন তারান জেলার বাসিন্দা। ২০০৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর সফলভাবে চাকরি করার পর ২০২১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু অবসরের পর থেকেই তাঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। একসময়ের সুশৃঙ্খল শিখ জওয়ান সেনাবাহিনী ছাড়ার পর প্রবল মানসিক অবসাদ ও মদ্যপানের নেশায় ডুবে যান। এই হতাশা থেকেই তিনি তাঁর পাগড়ি ত্যাগ করেন এবং দাড়ি কেটে ফেলেন। কলকাতার এক বেসরকারি ব্যাঙ্কে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ পেলেও মদ্যপানের অভিযোগে তাঁকে সেখান থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর বিহারের আরা-তে কাজ শুরু করলেও মাত্র ৪-৫ দিনে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে চাকরি হারান তিনি। এই একের পর এক ব্যর্থতাই তাঁর ভেতরের ঘুমন্ত ‘সাইকো কিলার’-কে জাগিয়ে তোলে।

১০ জনকেই কপালে গুলি করার নীল নকশা
পুলিশি তদন্তে দেখা গিয়েছে, গুরপ্রীতের খুনের ধরণ ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার। সে কোনো পরিচিত শত্রু নয়, বরং সম্পূর্ণ অপরিচিতদের টার্গেট করত। ২৫ ঘণ্টার মধ্যে সে ৩ জনকে খুব কাছ থেকে কপালে গুলি করে হত্যা করেছিল। পুলিশ যখন তাকে গ্রেপ্তার করে, তখন তার ব্যাগ থেকে একটি রিভলভার ও একটি দুইনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বন্দুকগুলোর নল সে কেটে ছোট করে ফেলেছিল যাতে সেগুলো অনায়াসেই ব্যাগে লুকোনো যায়। মুঘলসরাই বা পণ্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায় জংশনের মতো বড় স্টেশনে মেটাল ডিটেক্টর থাকা সত্ত্বেও সে অনায়াসে অস্ত্র নিয়ে যাতায়াত করেছে, যা নিরাপত্তার বড়সড় গলদ সামনে এনেছে।

শেষ পরিণতি ও এনকাউন্টার
বারাণসী রেঞ্জের ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণ জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় গুরপ্রীত কোনো খুনেরই সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি। সে কেবল বলত, “আমি আমার মনের রাজা”। সে কোথায় যাচ্ছে বা কেন মারছে, সে সম্পর্কে তার নিজেরও কোনো স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য যখন তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় এই ভয়ংকর খুনির। পাঞ্জাবে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তবে তার দুই সন্তান ও স্ত্রীর কাছে এখনও এই মর্মান্তিক পরিণতির খবর পৌঁছায়নি। গুরপ্রীতের মৃত্যু হলেও সে রেখে গেল এক আতঙ্কিত স্মৃতি এবং নিরাপত্তার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy