আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির আকাশে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে চলেছে ভারতবাসীর দৈনন্দিন জীবনে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং তেলের আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক অভিনব আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দেশবাসীকে কোভিডের সময়কার কিছু বিশেষ অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মূলে রয়েছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে সুরক্ষিত রাখা। ভারত তার প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের ডলারের ভাণ্ডারে টান পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত যদি সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশও কমাতে পারে, তবে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন।
স্মর্তব্য যে, ২০২০ সালে কোভিড মহামারির সময় লকডাউন এবং যাতায়াতে কড়াকড়ির ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানি বিল কয়েক বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কেন্দ্র এখন জ্বালানি সাশ্রয়কে জাতীয় কর্তব্যের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় শহরগুলিতে যদি আংশিকভাবেও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হয়, তবে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার তেলের সাশ্রয় হতে পারে। এতে একদিকে যেমন ডলারের ওপর চাপ কমবে, তেমনই বর্তমানে রেকর্ড নিম্নস্তরে থাকা ভারতীয় টাকার মান কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।
জ্বালানির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সোনা আমদানির বিষয়েও সতর্ক করেছেন। সোনা আমদানিতেও ভারতের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, তাই সাধারণ মানুষকে সোনা কেনার নেশা কিছুটা কমিয়ে দেশীয় পণ্যের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে কেন্দ্র। মোদীর এই বার্তায় পরিষ্কার—আসন্ন অর্থনৈতিক ঝড় মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের ছোট ছোট ত্যাগই হতে পারে দেশের রক্ষাকবচ।





