জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ‘ডান হাত’ এবার শ্রীঘরে! তোলাবাজি ও অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারে কাঁপছে উত্তর ২৪ পরগনা

উত্তর ২৪ পরগনায় তোলাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে পুলিশের জালে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী নেতা। ধৃত নেতার নাম অজিত সাহা, যিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদে আসীন ছিলেন। শুধু তিনিই নন, তোলাবাজি ও হিংসার অভিযোগে তাঁর ভাই সুজিত সাহাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ধৃত দু’জনকে বারাসত জেলা আদালতে তোলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ মে গোবরডাঙা থানায় এক ব্যবসায়ীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, অজিত সাহা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ঘটনার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অজিত সাহাকে গ্রেফতার করে। জেলা রাজনীতিতে অজিত সাহা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত হাবড়া এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন এবং ২০২৩ সাল থেকে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এই গ্রেপ্তারের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে দত্তপুকুরেও। ভোট-পরবর্তী হিংসায় মারধর, বাড়ি ভাঙচুর ও জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে দত্তপুকুরের কাশেমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মেঘনাথ দাস এবং উপপ্রধানের স্বামী গোপাল কাঞ্জিলালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে গোপাল কাঞ্জিলালের ছেলে সম্বিত কাঞ্জিলালও রয়েছেন। উল্লেখ্য, গোপাল কাঞ্জিলাল রাজ্য পুলিশের একজন কনস্টেবল। সব মিলিয়ে বুধবার মোট পাঁচ জনকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অজিত সাহার ভাই সুজিত সাহার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এক জমি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে মসলন্দপুর বাজারের কাছে সুজিতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তল্লাশিতে সুজিতের বাড়ি থেকে যা উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। তাঁর বাড়ি থেকে ৬১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৬১টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোল, বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের দামি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

সুজিতের কাছে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ কোথা থেকে এল এবং ব্যবহৃত কার্তুজের খোলগুলো কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই গ্রেফতারি শুধু তোলাবাজির ঘটনার তদন্ত নয়, বরং জেলাজুড়ে তৃণমূলের অন্দরে চলা দাপুটে নেতাদের কার্যকলাপের ওপর বড়সড় আঘাত। ভোটের পর থেকে লাগাতার হিংসা ও তোলাবাজির অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছিল, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে পুলিশ তা প্রশমন করার চেষ্টা করছে। এখন বারাসত আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা জেলা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy