বর্তমান সময়ে যখন তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশ মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত, ঠিক তখনই দক্ষিণ দিল্লির আসোলা-ফতেহপুর বেরি গ্রাম এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এই গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত ‘বাউন্সারদের গ্রাম’ বা ‘ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাম’ হিসেবে। এখানে ফিটনেস কেবল কোনো শখ নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানকার যুবকদের পেশিবহুল শরীর এবং কঠোর শৃঙ্খলার সামনে বড় বড় অ্যাথলিটরাও হার মানতে বাধ্য।
আসোলা-ফতেহপুর বেরিতে সকালের সূর্যোদয় মানেই আখড়ায় কুস্তি আর ভারোত্তোলনের কসরত। এখানকার যুবকরা জিমকে কোনো সাধারণ ব্যায়ামাগার নয়, বরং এক পবিত্র মন্দিরের মতো মনে করে। জিমের আধুনিক মেশিনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মাটির কুস্তি এখানকার সংস্কৃতির মূলে রয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, শক্তিশালী হওয়ার নেশায় এখানকার যুবকরা অদ্ভুত সব পদ্ধতি অনুসরণ করে—কখনও তারা মোটরসাইকেল তুলে ব্যায়াম করে, আবার কখনও খালি হাতে ট্র্যাক্টর টেনে নিজেদের পেশিকে ইস্পাতের মতো মজবুত করে তোলে।
এই গ্রামে ফিটনেসের হাতেখড়ি হয় শৈশব থেকেই। মোবাইল বা টিভির নেশায় বুঁদ না হয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই আখড়ায় পাঠান। প্রবীণদের মতে, কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতাই সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি। এখানকার পালোয়ানদের ডায়েট চার্টও বেশ আকর্ষণীয়। কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে তারা ভরসা রাখেন খাঁটি দুধ, দই, ঘি, বাদাম ও প্রোটিনে ভরপুর নিরামিষ খাবারের ওপর। নেশামুক্ত জীবনযাপনই তাদের সাফল্যের রহস্য। মদ বা ধূমপানের মতো অভ্যাসের ধারেকাছেও যান না তারা।
এই গ্রামকে অনেকেই ‘বাউন্সার ফ্যাক্টরি’ বলে ডাকেন। কারণ, এখানকার যুবকদের শারীরিক গঠন এবং শৃঙ্খলার জন্য দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলের বড় বড় নাইট ক্লাব, বার ও তারকাখচিত ইভেন্টে বাউন্সার বা বডিগার্ড হিসেবে তাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ১৯৯৫ সালে কুস্তিগীর বিজয় তানওয়ার যখন প্রথম বাউন্সার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন কেউ ভাবতেও পারেননি যে, এটিই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সম্মানজনক পেশা হয়ে উঠবে। বর্তমানে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে অন্তত একজন যুবক নিরাপত্তার কাজের সঙ্গে যুক্ত। শারীরিক শক্তি ও বিশ্বস্ততার মেলবন্ধনে আসোলা-ফতেহপুর বেরির যুবকরা আজ গোটা ভারতের কাছে এক বিস্ময়।





