সনাতন ধর্মে ভগবান গণেশের উদ্দেশ্যে নিবেদিত সংকষ্টী চতুর্থীর ব্রত অত্যন্ত মহিমান্বিত। প্রতি মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতে বিঘ্নহর্তার আরাধনা করা হলেও, বিভুবন সংকষ্টী চতুর্থী অত্যন্ত বিশেষ। এটি প্রতি তিন বছরে একবার অধিক মাসে পড়ে, যা ভক্তদের জন্য পরম সৌভাগ্যের। ২০২৬ সালের এই ব্রত পালনের মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে নিষ্ঠাভরে গণেশ আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত জটিলতা ও বাধার অবসান ঘটে এবং সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ২০২৬ সালের ৩রা জুন রাত ৯:২১ মিনিটে অধিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথি শুরু হচ্ছে এবং ৪ঠা জুন রাত ১১:৩০ মিনিটে তা শেষ হবে। উদয়াতিথি অনুসারে, ৩রা জুনই বিভুবন সংকষ্টী চতুর্থীর ব্রত পালন করা হবে। এই দিনে ভোর ৫:২৩ থেকে সকাল ১১:৪৬ পর্যন্ত লাভ-উন্নতি এবং অমৃত-সর্বোত্তম মুহূর্তের বিশেষ শুভযোগ রয়েছে। যারা সকালে পুজো করতে পারবেন না, তারা সকাল ১০:৩৫ থেকে দুপুর ১২:১৯ পর্যন্ত সময়েও পুজো সম্পন্ন করতে পারেন। এছাড়া, ভোর ৫:২৮ থেকে সকাল ১১:৪৬ পর্যন্ত ‘সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ’ থাকবে, যা গণেশ পুজোর জন্য অত্যন্ত প্রশস্ত।
সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে ব্রত পালনের সংকল্প গ্রহণ করুন। একটি পবিত্র বেদীতে গণেশের মূর্তি স্থাপন করে জল, বস্ত্র, ফুল, চন্দন ও অলঙ্কার দিয়ে সাজিয়ে তুলুন। গণপতি বাপ্পাকে সিঁদুর ও ২১ আঁটি দূর্বা ঘাস অর্পণ করা অপরিহার্য। নৈবেদ্য হিসেবে মোদক বা লাড্ডু নিবেদন করুন। ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে “ওম গণ গণপতয়ে নমঃ” মন্ত্র জপ করুন এবং পুজোর শেষে ভক্তিভরে আরতি ও ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
বিভুবন সংকষ্টী চতুর্থীর ব্রত চন্দ্র দর্শণ ও অর্ঘ্য নিবেদন ছাড়া অসম্পূর্ণ। ৩রা জুন রাত ১০:০৪ মিনিটে চন্দ্রোদয় হবে। ব্রতীরা রাত ১০:০৪ থেকে ১০:৪৩-এর মধ্যে চন্দ্রকে অর্ঘ্য প্রদান করতে পারেন। অর্ঘ্য নিবেদনের সময় জলের সাথে সামান্য কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিলে তা শাস্ত্রসম্মত এবং শুভ বলে বিবেচিত হয়। এই নিয়ম মেনে পুজো করলে ভগবান গণেশ ও চন্দ্রদেব উভয়েরই কৃপাদৃষ্টি লাভ করা সম্ভব বলে ভক্তদের বিশ্বাস।





