চাকরি ছাড়ার দুশ্চিন্তা অতীত! ইপিএফও-র ‘ফর্ম ১০সি’ ব্যবহারে কীভাবে পাবেন পেনশনের টাকা?

চাকরি পরিবর্তনের সময় কিংবা ১০ বছরের কর্মজীবন পূর্ণ হওয়ার আগেই চাকরি ছেড়ে দিলে অনেকেরই দুশ্চিন্তা হয়—পেনশনের জমানো টাকা কি আর পাওয়া যাবে না? বহু কর্মচারীর মধ্যেই এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, ন্যূনতম ১০ বছর কাজ না করলে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর পেনশন তহবিলের টাকা তোলা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবে ইপিএফও-র নিয়ম অত্যন্ত সহজ এবং স্বচ্ছ। ইপিএফও-র বিশেষ ‘ফর্ম ১০সি’ (Form 10C)-এর মাধ্যমে আপনি আপনার পেনশন অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ অনায়াসেই তুলে নিতে পারেন।

ফর্ম ১০সি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
যখন কোনো সংস্থায় আপনি কাজ করেন, তখন আপনার বেতনের একটি অংশ ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই জমার ৮.৩৩% অংশ জমা হয় এমপ্লয়ি পেনশন স্কিমে (EPS)। যদি কোনো কর্মচারী ১০ বছর কাজ করার আগেই চাকরি ছেড়ে দেন, তবে তিনি মাসিক পেনশনের অধিকারী হন না। সেই অর্থই সরাসরি তুলে নেওয়ার সুযোগ দেয় ফর্ম ১০সি। এই ফর্মের মাধ্যমে আপনি শুধু পেনশনের টাকা তোলাই নয়, চাইলে একটি ‘স্কিম সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করে পরবর্তী সংস্থার অ্যাকাউন্টে তা স্থানান্তরও করতে পারেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন?
ইপিএফও-র গাইডলাইন অনুযায়ী, যে সকল কর্মচারী ১০ বছর পূর্ণ করার আগেই চাকরি ছেড়েছেন বা অবসর নিয়েছেন, তারা এই ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। এছাড়া, যাদের বয়স ৫৮ বছর পূর্ণ হয়েছে অথবা যারা ১০ বছর কাজ করেছেন কিন্তু বর্তমানে ৫০ বছরের কম বয়সী, তারাও এই সুবিধার আওতায় পড়েন। সাধারণত চাকরি ছাড়ার পর দুই মাসের বেশি বেকার থাকলে কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে এই অর্থ তোলার আবেদন করা যায়।

আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
অনলাইন বা অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই আবেদনের জন্য কিছু নথিপত্র হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন:

ইউএএন (UAN) এবং পাসওয়ার্ড।

প্যান কার্ড।

সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং বর্তমান ঠিকানা।

ব্যাঙ্ক ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার নামের একটি বাতিল চেক (Cancelled Cheque)।

অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে ১ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প।

সদস্যের মৃত্যু হলে মৃত্যু শংসাপত্র এবং প্রয়োজনে সন্তানদের জন্ম শংসাপত্র।

অনলাইন আবেদনের পদ্ধতি:
১. প্রথমে ইপিএফও-র অফিসিয়াল পোর্টালে আপনার ইউএএন এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করুন।
২. মেনু অপশন থেকে ‘অনলাইন সার্ভিসেস’ (Online Services)-এ ক্লিক করুন।
৩. সেখানে ‘ক্লেইম ফর্ম-৩১, ১৯, ১০সি এবং ১০ডি’ (Claim Form 10C) নির্বাচন করুন।
৪. আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি দিয়ে সেটি ভেরিফাই করুন এবং ‘প্রসিড ফর অনলাইন ক্লেইম’ বাটনে ক্লিক করুন।
৫. প্রদর্শিত ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে ‘ফর্ম ১০সি’ অপশনটি বেছে নিন।
৬. আপনার আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেটি এন্ট্রি করে সাবমিট করলেই আপনার আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন হলে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার দাবির বিষয়টি প্রসেস হয়ে যাবে এবং অর্থ সরাসরি আপনার লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে। নিয়ম জানা থাকলে আপনার কষ্টার্জিত জমানো অর্থ কখনই হারাবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy