প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে ওলটপালট CUET UG-এর সময়সূচী, পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা NTA-র

কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (CUET UG) ২০২৬-এর পরীক্ষার্থীদের জন্য আজ এক উদ্বেগের দিন। ৩০শে মে আয়োজিত এই প্রবেশিকা পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্রে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিঘ্নিত হয়েছে স্বাভাবিক সময়সূচী। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) জানিয়েছে, তাদের পরীক্ষা সহযোগী সংস্থা টিসিএস (TCS)-এর সিস্টেমে গোলযোগের কারণেই এই বিলম্ব। তবে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে এনটিএ তড়িঘড়ি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আজকের পরীক্ষার দ্বিতীয় বা বিকালের সেশনের জন্য এনটিএ নির্দেশ দিয়েছে যে, পরীক্ষার্থীদের দুপুর ২:৩০ মিনিট থেকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে যে বিলম্ব হয়েছে, তা পুষিয়ে দিতে পরীক্ষাকে বিকেল ৩টার পরিবর্তে ৪টে থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় দেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রথম বা সকালের সেশনের পরীক্ষার্থীরা, যাদের পরীক্ষা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় দেরিতে শুরু হয়েছিল, তাদেরও পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত পুরো সময়টি দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যাতে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে তাদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত অভিভাবকরা এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট করে তাঁরা এনটিএ-র প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে অনেক দূর থেকে আসা পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই বছর CUET UG পরীক্ষা ১১ই মে শুরু হয়েছে এবং এটি ৩১শে মে পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক ও উৎসব সংক্রান্ত কারণবশত পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৮শে মে বকরিদ উৎসবের কারণে কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। এনটিএ-এর সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, বাকি থাকা পরীক্ষাগুলি এখন ৩১শে মে, ৬ই জুন এবং ৭ই জুন অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর সর্বমোট ১৫,৬৮,৮৬৬ জন পরীক্ষার্থী এই প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

প্রযুক্তিগত বিভ্রাট নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এনটিএ আশ্বস্ত করেছে যে, সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং কোনো পরীক্ষার্থীরই সময়ের অভাব হবে না। তবুও, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় বারবার প্রযুক্তিগত গোলযোগ এবং তার জেরে সূচিতে অদলবদল মেধার লড়াইয়ে লিপ্ত লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ। পরবর্তী দিনগুলিতে পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই দিকেই এখন সকলের নজর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy