কাঠফাটা রোদের দিন শেষ, এবার স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় বাংলা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের বাকি কদিন রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি চলবে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকার পাশাপাশি আজ থেকেই দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সূচনা হতে চলেছে। যদিও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকায় গুমোট ভাব কিছুটা রয়েছে, তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি কমে ৩৩° সেলসিয়াসের ঘরে নেমেছে।
কেন এই অকাল বর্ষণ?
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পূর্ব ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নস্তরের ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী পশ্চিমী জেট স্ট্রিম। বঙ্গোপসাগর থেকে হু হু করে ঢুকছে জলীয় বাষ্প। এই দুইয়ের জোড়া ফলাতেই ভরা বৈশাখে ভিজতে চলেছে বাংলা।
দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস:
আজ সোমবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আবহাওয়ার ভোলবদল শুরু হবে।
বৃষ্টির সতর্কতা: নদিয়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কালবৈশাখীর দাপট: কোথাও কোথাও ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
টানা দুর্যোগ: ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) থেকে ১ মে (শুক্রবার) পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বজ্রঝড় ও বৃষ্টি চলবে। শনিবার থেকে বৃষ্টির তেজ কিছুটা কমতে পারে।
উত্তরবঙ্গের হালহকিকত:
উত্তরবঙ্গে বৈশাখের দাপট শুরু থেকেই কম। আজ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির (৭-২০ সেমি) সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত উত্তরের জেলাগুলোতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.০৬° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭.০৪° সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি থাকলেও, বৃষ্টির ফলে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।





