দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাংলায় যেন কালবৈশাখীর ঝড়! তবে এই ঝড় প্রকৃতির নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশের এক বিশাল ‘ক্লিন আপ ড্রাইভ’। গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে ধরপাকড় করা হয়েছে মোট ১৫৪৩ জনকে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন যে এবার কোনো আপস করতে রাজি নয়, এই মেগা অভিযানই তার প্রমাণ।
কোথায় সবচেয়ে বেশি ধরপাকড়? পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৭৯ জনকে, যার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ি ভগত। এছাড়াও অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে জেলাগুলিতে:
উত্তর ২৪ পরগনা: ৩১৯ জন আটক।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৪৬ জন আটক।
কলকাতা (উত্তর): ১০৯ জন আটক।
হুগলি: ৪৯ জন।
নদিয়া ও হাওড়া: ৩২ জন করে আটক।
নজরদারিতেও থামছে না রক্তপাত! কমিশন কোমর বেঁধে নামলেও অশান্তি থামার লক্ষণ নেই। রবিবার মাঝরাতে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল কার্যত কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বোমাবাজি এবং পাথর বৃষ্টিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। অন্যদিকে, সোমবার সকালে আরামবাগে আক্রান্ত হন সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁর গাড়িতে হামলার জেরে জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
মমতাকে শাহের তোপ: বাংলার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি তোপ দেগেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সাফ দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিংসা চান বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।” তবে শাহ এও মনে করিয়ে দেন, আগের তুলনায় হিংসার মাত্রা কমেছে এবং অভিযুক্তরা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না।
ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, একদিকে পুলিশের ধরপাকড় আর অন্যদিকে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বাংলার পারদ ততই চড়ছে। কমিশনের এই ‘সুপার ড্রাইভ’ শেষ পর্যন্ত শান্তিতে ভোট করাতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





