‘অপারেশন সিঁদুর’—ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক এমন পদক্ষেপ যার ক্ষত আজও দগদগে পাকিস্তানের বুকে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মানসিক আঘাত এবং কৌশলগত বিপর্যয় থেকে বেরোতে পারেনি ইসলামাবাদ ও তাদের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো। ভারতের এই বিধ্বংসী অভিযানের পর থেকে একদিকে যেমন সিন্ধু নদের পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে হাহাকার শুরু হয়েছে, অন্যদিকে হাফিজ সাঈদ ও মাসুদ আজহারের মতো কুখ্যাত জঙ্গিরা প্রাণভয়ে আত্মগোপন করে আছে।
আতঙ্কে আত্মগোপন হাফিজ-মাসুদদের
গত ৩৬৫ দিনে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের কোনো সাম্প্রতিক ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। ভারতীয় বিমান হামলার আতঙ্কে তারা এতটাই ভীত যে, প্রতিনিয়ত আস্তানা বদল করে চলেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী লস্কর, জইশ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের অন্তত ১০টি প্রধান আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে উঠে সংগঠনগুলো ফের ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করলেও ভারতীয় গোয়েন্দা ও সেনাবাহিনীর কড়া নজরদারিতে তা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
অজ্ঞাত আততায়ীর থাবা ও আর্থিক সংকট
সংগঠন দুটির অবস্থান বর্তমানে তলানিতে। ভারতের অভিযানের পর থেকেই পাকিস্তানের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা শীর্ষ জঙ্গিরা একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছে। সম্প্রতি লস্করের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হামজা লাহোরে অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছে। শুধু তাই নয়, জইশ প্রধান মাসুদের পরিবারের ১৪ জন সদস্যও ভারতের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে, যাদের সহায়তার জন্য পাকিস্তান সরকার ১৪ কোটি রুপির ত্রাণ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। হিজবুল মুজাহিদিনের সাজ্জাদ আহমেদের মৃত্যুতে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কগুলো এখন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে।
জল-সংকট ও আকাশপথের বিড়ম্বনা
কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের পাশাপাশি পাকিস্তানকে কাবু করেছে জল-সংকট। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথম ভারত সিন্ধু নদের প্রবাহে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে যথাক্রমে ১৩% এবং ১৭% পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান এই নিয়ে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলেও কোনো দেশই তাদের আর্তনাদে কর্ণপাত করেনি। এর ওপর ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে রাখায় প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটি।
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সেনা ও অস্ত্র ভাড়া
তীব্র আর্থিক সংকটে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান এখন টিকে থাকার জন্য মরিয়া। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পাকিস্তান সরকার তাদের সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র ভাড়া দিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবে ১৩,০০০ সৈন্য পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ, যার বিনিময়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পেয়েছে তারা। তবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ পাকিস্তানের অর্থনীতি ও সন্ত্রাসবাদ রক্ষার যে মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে, তা জোড়া লাগানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।





