এবার থেকে উর্দি ছাড়া তল্লাশি নয়! লালবাজারের কড়া নির্দেশিকায় বড় পরিবর্তন কলকাতা পুলিশে

কলকাতা পুলিশের কার্যপদ্ধতিতে এল এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। এখন থেকে তল্লাশি অভিযান, গ্রেফতারি বা যেকোনো সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশকর্মীদের উর্দি পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অভিযানে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের পরিচয় নিয়ে জনমানসে বিভ্রান্তি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠছিল। সেই সমস্যা দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করতেই কমিশনারের দপ্তর থেকে এই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

২৪ মে প্রকাশিত এই নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকর্মীদের পরিচয় যেন স্পষ্ট থাকে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই তাঁদের শনাক্ত করতে পারেন, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। লালবাজারের এক পদস্থ আধিকারিকের মতে, এই নিয়মের ফলে কাজে স্বচ্ছতা আসবে এবং বেআইনি কার্যকলাপের সুযোগ কমবে। যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজনে সাদা পোশাকে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে অভিযানে বেরোনোর আগে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং সেই সময় নিজেদের পরিচয়পত্র বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে কয়েকটি বিশেষ বিভাগকে। ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (DD), স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF), এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB) এবং সাইবার ইউনিটের মতো যে শাখাগুলি মূলত গোপন তদন্ত বা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে, তাদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘ডিকে বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ’ মামলার নির্দেশিকা মেনেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লালবাজারে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই পুলিশের স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে সিভিক ভলান্টিয়ারদের দ্বারা তল্লাশি, মহিলা জিজ্ঞাসাবাদের সময় মহিলা পুলিশকর্মীর অনুপস্থিতি বা বিনা উর্দিতে বাড়িতে ঢুকে জিজ্ঞাসাবাদের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেসবের পুনরাবৃত্তি রুখতেই বর্তমান সরকার এই নীতি গ্রহণ করেছে।

ইতিমধ্যে নগরপাল অজয় নন্দ শহরের সবকটি থানার ওসি (OC) এবং ডেপুটি কমিশনারদের (DC) নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্তের খাতিরে পুলিশ যেন সর্বদা উর্দি পরিহিত অবস্থায় থাকে। এটি যেমন নিরাপত্তার খাতিরে জরুরি, তেমনই পুলিশের কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লালবাজারের এই কঠোর মনোভাব শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy