আই-প্যাকের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক কাকলি! পরাজয়ের দায় ঝেড়ে ফেলে সাংসদ আনলেন বড় অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় হারের পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। দলের এই ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই বারাসাত জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুধু পদত্যাগই নয়, তিনি সরাসরি তোপ দেগেছেন নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি জানান, আই-প্যাকের কর্মীরা তৃণমূলের কর্মীদের সাথে অত্যন্ত অভদ্র ও অমানবিক আচরণ করত। তাঁর কথায়, “আমাদের কর্মীরা দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজ করেন, তাঁরা ভৃত্য নন। আই-প্যাকের ঔদ্ধত্য এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তারা নিজেদের প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও শক্তিশালী ভাবতে শুরু করেছিল।” কাকলির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে এই সংস্থাটি স্বেচ্ছাচারী আচরণ করত, যা দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বারাসাতের সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে পাঁচটিতে হারের কারণ হিসেবে তিনি সরকারবিরোধী হাওয়া ও ভোটার তালিকা সংশোধনের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন।

এদিকে, কাকলির এই পদত্যাগ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় এই পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, সংসদীয় দলের চিফ হুইপের পদ হারানোয় ক্ষুব্ধ হয়েই কাকলি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংকটের সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এভাবে জনসমক্ষে বিতর্ক তৈরি করা উচিত হয়নি বলেই মনে করছেন সৌগত। এখন দেখার, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংকট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে সামাল দেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy