ব্যবসা শুরু করতে বড় অঙ্কের মূলধন লাগে—এই ধারণা ভেঙে দিলেন কোচবিহারের শিবযজ্ঞ এলাকার গৃহবধূ তারা চক্রবর্তী। ২০১৮ সালে নিজের রান্নাঘর থেকে সামান্য কিছু ফল আর মশলা দিয়ে যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন, আজ তা তাঁকে দিয়েছে আর্থিক স্বাধীনতার স্বাদ। তাঁর তৈরি হরেক রকমের আচার এখন কোচবিহারের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।
যেভাবে শুরু হলো এই ‘আচার কাহিনী’:
সংসারের কাজের ফাঁকে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ২০১৮ সালে প্রথম আচার বানানো শুরু করেন তারা দেবী।
প্রথম পদক্ষেপ: ঘরে তৈরি আচার নিয়ে তিনি প্রথমে স্থানীয় দোকানগুলিতে যোগাযোগ করেন।
বাজারজাতকরণ: ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়তে থাকায় তিনি জেলার বিভিন্ন মেলায় নিজের স্টল দিতে শুরু করেন।
সফলতা: অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর সুস্বাদু আচারের পরিচিতি বাড়ে এবং লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি।
কেন এই ব্যবসা লাভজনক?
তারা চক্রবর্তীর মতে, আচারের ব্যবসা করার জন্য বড় কোনো পরিকাঠামো বা যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই।
স্বল্প বিনিয়োগ: সামান্য কিছু ফলের সিজন অনুযায়ী (যেমন আম, কুল, আমড়া বা লঙ্কা) খুব কম পুঁজিতেই এই কাজ শুরু করা যায়।
বিপুল চাহিদা: বাঙালির পাতে আচারের চাহিদা সারা বছরই থাকে। ঋতুভেদে আম, লঙ্কা বা কুলের আচারের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে মহিলারা অনায়াসেই ঘরে বসে আয় করতে পারেন।
মার্কেটিং-এর সুযোগ: স্থানীয় দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার বাজার, মেলা বা এমনকি ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেও এখন অনায়াসে এই পণ্য বিক্রি করা সম্ভব।
অন্যান্য মহিলাদের জন্য বার্তা:
বর্তমানে বাংলার অনেক মহিলাই স্বনির্ভর হতে চান। তারা চক্রবর্তীর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সদিচ্ছা থাকলে ঘরের কোণে বসেও নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব। গৃহবধূ থেকে সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এই লড়াই এখন কোচবিহারের অনেক মহিলার কাছেই অনুপ্রেরণার অন্য নাম।
এডিটোরিয়াল নোট: ছোট উদ্যোগই একদিন বড় ব্যবসার জন্ম দেয়। কোচবিহারের এই গৃহবধূর গল্প কেবল আচারের ব্যবসার খবর নয়, এটি এক নারীর আত্মসম্মান ও সাফল্যের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। আপনিও কি ভাবছেন ছোট কোনো ব্যবসা শুরু করবেন? তবে দেরি না করে তারা চক্রবর্তীর এই মডেল অনুসরণ করতে পারেন।





