লাল ফিতের ফাঁস আর সরকারি অফিসের চক্কর কাটতে কাটতে নাজেহাল হওয়ার দিন এবার ইতিহাস। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র হাত ধরে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (MSME) বইছে অভাবনীয় সাফল্যের জোয়ার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— সরকারি কাজকর্ম অনলাইন হতেই দেশের ছোট ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ও মুনাফা আকাশ ছুঁয়েছে।
ফাইলের জাল থেকে মুক্তি, আয়ের উজান
সাধারণত বড় বড় সংস্থাগুলোর কাছে সরকারি দপ্তরের জটিলতা সামলানোর জন্য লোকবল থাকলেও, বিপাকে পড়তেন ছোট ব্যবসায়ীরা। আইএমএফ-এর অর্থনীতিবিদ সোমনাথ শর্মা ও কেনিচি উয়েদার পেশ করা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ভারতের যে রাজ্যগুলোতে ট্যাক্স থেকে শুরু করে ব্যবসার পারমিট বা লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল হয়েছে, সেখানে ছোট কারখানাগুলোর শ্রী ফিরেছে। টেবিলের তলা দিয়ে টাকা লেনদেনের প্রথা বন্ধ হওয়ায় এবং সরাসরি স্বচ্ছতার সাথে কাজ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সময় ও মানসিক চাপ দুই-ই কমেছে।
অর্থনীতির ‘সাইলেন্ট হিরো’ যখন ১১ কোটি মানুষ
ভারতের মোট ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের ৩৫ শতাংশই আসে এই ক্ষুদ্র শিল্প থেকে। দেশের মোট রফতানির ৪৫ শতাংশই বহন করে এই সেক্টর। সবথেকে বড় কথা, প্রায় ১১ কোটি মানুষের অন্ন সংস্থান করে এই ছোট ছোট কারখানাগুলো। ডিজিটাল সংস্কারের ফলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের রোজগার এখন আগের থেকে অনেক বেশি সুরক্ষিত ও লাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৯৮ দফার সেই অ্যাকশন প্ল্যান ও ম্যাজিক
২০১৪ সালে রাজ্যগুলো ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে একটি ‘৯৮-দফার অ্যাকশন প্ল্যান’-এ সম্মতি জানিয়েছিল। মূলত কর ব্যবস্থা, নির্মাণ পরমিট, পরিবেশ ও শ্রম আইন এবং সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্সের ওপর জোর দেওয়া হয়। যে রাজ্যগুলো এই ডিজিটাল পদ্ধতি দ্রুত কার্যকর করেছে, সেখানকার শিল্পে সরাসরি জোয়ার এসেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মর্জির ওপর এখন আর ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ ঝুলে নেই, বরং কম্পিউটার মাউসের ক্লিকেই হচ্ছে সব কাজ।
নিজের এলাকাতেই উন্নতির চাবিকাঠি
রিপোর্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। আগে মনে করা হতো ভালো সুযোগের অভাবে ব্যবসায়ীরা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যাবেন। কিন্তু ডিজিটাল সংস্কারের ফলে দেখা যাচ্ছে, ছোট ব্যবসায়ীরা তাঁদের নিজেদের এলাকাতেই থেকেও বিপুল লাভের মুখ দেখছেন। সিস্টেম স্বচ্ছ হওয়ায় এখন বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন রাস্তার ধারের ছোট দোকানদার বা ছোট কারখানার মালিকরা।
এক কথায়, ডিজিটাল ইন্ডিয়া কেবল স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সীমাবদ্ধ নেই; ভারতের আম ব্যবসায়ীর পকেটে নগদ টাকার জোগান বাড়াতে এটি এখন সবথেকে বড় অস্ত্র।





