“মা নিখোঁজ, বাবা বিদেশে”-বন্ধ ঘরে পড়ে ছিল ৪ নাবালকের দেহ! ঘনীভূত রহস্য

উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। নিজের বাড়ির ভেতর থেকেই উদ্ধার হলো চার নাবালক ভাইবোনের ক্ষতবিক্ষত দেহ। শনিবার দুপুরের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৪, ১২ এবং ১০ বছরের তিন কিশোর এবং ৮ বছরের এক শিশুকন্যা। ঘটনার পর থেকেই তাদের মা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ, যা নিয়ে দানা বাঁধছে একাধিক প্রশ্ন।

রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর: তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যত শিউরে ওঠেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নাবালকদের ওপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ঘাতকরা ইট এবং ধারালো কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের কুপিয়ে খুন করেছে। ঘরের প্রতিটি কোণ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। খুনের ধরণ দেখে পুলিশের অনুমান, চরম আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

রহস্যের কেন্দ্রে নিখোঁজ মা: পুলিশের কাছে এই ঘটনার রহস্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ বাড়ির মালকিন তথা চার সন্তানের মাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই মহিলার নামেই বাড়ির মালিকানা রয়েছে। এসপি (SP) প্রাচী সিং জানিয়েছেন, “আমরা সবকটি দিক খতিয়ে দেখছি। যেহেতু ওই মহিলার নামেই সম্পত্তি, তাই এর পেছনে কোনো বিষয়ী বিবাদ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় স্পষ্ট হবে।”

বিদেশে বাবা, বাড়িতে ঘাতক: তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত চার ভাইবোনের বাবা গত এক বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। দীর্ঘ সময় তিনি বাড়িতে ফেরেননি। মা ও চার সন্তানই ওই বাড়িতে থাকতেন। বাবার অনুপস্থিতিতে কেন এবং কারা এই শিশুদের টার্গেট করল, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ওই ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছে।

তদন্তে ফরেনসিক টিম: ইতিমধ্যেই পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বাড়িটি তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিখোঁজ মায়ের খোঁজে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি। এটি কোনো পরিচিত মানুষের কাজ নাকি এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভরা দুপুরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড যোগীরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে পুলিশ এখন নিখোঁজ মহিলার সন্ধানে মরিয়া।