স্ট্রংরুমের ১০০ মিটারে রহস্যময় গাড়ি, ইভিএম চুরির আশঙ্কা তৃণমূলের?

আগামীকাল রাজ্যের হাইভোল্টেজ পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। তার ঠিক আগের দিন সকালে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের স্ট্রংরুমের সামনে তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। লর্ড সিনহা রোডের শাখওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুলের সামনে রবিবার সকালে দুটি সন্দেহভাজন গাড়ি ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বচসা ও বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা।

কী ঘটেছিল আজ সকালে? কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, স্ট্রংরুমের ১০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার সকালে কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেঙে আচমকাই দুটি গাড়ি স্কুলের একেবারে কাছে চলে আসে। যার মধ্যে একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়িতে ‘আর্মি’ লেখা ছিল এবং তাতে লাগানো ছিল বিজেপির দলীয় পতাকা। অন্যটি ছিল একটি ডিজায়ার গাড়ি। লর্ড সিনহা রোডের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় যেখানে একটি সাইকেল ঢুকলেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে, সেখানে রাজনৈতিক পতাকা লাগানো গাড়ি কীভাবে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা।

তৃণমূলের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ওই গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে সটান স্কুলের ভিতরে অর্থাৎ স্ট্রংরুম চত্বরে ঢুকে পড়েন। নওশাদ নামে এক তৃণমূল কর্মী সংবাদমাধ্যমে বলেন, “পুলিশ কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু আর্মি লেখা গাড়িতে বিজেপির পতাকা কেন? যেখানে কড়া চেকিং চলছে, সেখানে এই গাড়িগুলো কার নির্দেশে ঢুকল?” তাঁদের অভিযোগ, গণনার আগে ইভিএম নিয়ে কারচুপি করার উদ্দেশ্যেই এই ধরণের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি: পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি আসরে নামে সেখানে মোতায়েন থাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশের দাবি, ভুলবশত গাড়ি দুটি ভেতরে ঢুকে পড়েছিল এবং তৎক্ষণাৎ সেগুলোকে ১০০ মিটারের পরিধির বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লর্ড সিনহা রোড জুড়ে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করে তবেই ছাড়া হচ্ছে।

মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথে তপ্ত ভবানীপুর: উল্লেখ্য, এই শাখওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুম ঘিরেই গত কয়েকদিন ধরে টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের পর খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে এসে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন। ইভিএম লুটের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি দলীয় কর্মীদের কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাল্টাচাল হিসেবে পরদিন সেখানে পৌঁছেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও।

আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। তার আগে রবিবারের এই ঘটনা ভবানীপুরের রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। গণনাকেন্দ্রে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এখন প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy