মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক নারকীয় অধ্যায়। শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর বিধানসভা এলাকার ১ নম্বর বুথের কাছে একটি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ৩-৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে এক বৃদ্ধ এবং মহিলারাও রয়েছেন। অভিযোগের তির সরাসরি শাসকদল তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে।
ঘটনার নেপথ্যে আতিথেয়তা: ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ এপ্রিল, ভোটের দিন। কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী ওই এলাকায় ভোট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। গরমের মধ্যে তিনি স্থানীয় একটি মন্দিরের বারান্দায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় ওই পরিবারের সদস্যরা সৌজন্যবশত অধীর চৌধুরীকে একটি টেবিল ফ্যান চালিয়ে দেন। এই সামান্য আতিথেয়তাই কাল হয়ে দাঁড়াল তাঁদের জন্য। দুষ্কৃতীদের দাবি, কেন বিরোধী দলের প্রার্থীকে সাহায্য করা হলো এবং কেন বুথে ‘স্লো ভোটিং’ বা ধীরগতির ভোটদান নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হলো।
মাঝরাতের বিভীষিকা: পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি বৃদ্ধদের রক্তাক্ত করা হয় এবং মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান অধীর চৌধুরী। তিনি আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হন।
অধীর চৌধুরী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “একটি পরিবার পাখা চালিয়ে আমাকে একটু হাওয়া দিয়েছিল, এটাই কি তাঁদের অপরাধ? গণতন্ত্রের নামে মুর্শিদাবাদে মগের মুলুক চলছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার না করা হলে কংগ্রেস বড়সড় আন্দোলনে নামবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।





